প্রেম করে বিয়ে, ৭ বছর পর স্ত্রীর গলা ও নাক কেটে নৃশংস খুন! পৈশাচিক কান্ড ঘটিয়ে পালানোর সময় জালে স্বামী

মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলায় এক পৈশাচিক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। সিভিল লাইন্স থানা এলাকার আলোচিত জ্যোতি চৌরাসিয়া হত্যা মামলার রহস্য ভেদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নিজের স্ত্রীকে সঙ্গীকে নিয়ে খুন করেছে খোদ তার স্বামীই। ঘটনার পরই অভিযুক্তরা উত্তরপ্রদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত তাদের ঘিরে ফেলে সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও বাইকটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ছাতারপুরের এসপি রজত সাকলেচা জানিয়েছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মৃতার স্বামী লাখান জোশী এবং তার সহযোগী সোনু কুশওয়াহাকে মহোবা সীমানার কাছ থেকে পাকড়াও করা হয়েছে। পুলিশি জেরায় অভিযুক্তরা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে এবং খুনের নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর বিবরণ দিয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর আগে লাখান জোশী ও জ্যোতি চৌরাসিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাঁরা ভালোবেসে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁরা মহারাজপুর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রথম কয়েক বছর তাঁদের সংসার সুখের হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয়ে দম্পতির মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও অশান্তি শুরু হয়। লাখান চাইত তাদের সন্তানরা তার সঙ্গেই থাকুক, কিন্তু জ্যোতি এর তীব্র বিরোধিতা করেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে প্রায়শই অশান্তি লেগে থাকত।
এই পারিবারিক বিরোধ ও আক্রোশের জেরে লাখান তার বন্ধুর সঙ্গে মিলে স্ত্রীকে হত্যার ভয়ঙ্কর ছক কষে। পরিকল্পনা মতো প্রথমে স্ত্রীর নাক কেটে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং জ্যোতি বাধা দিলে দুজনে মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে নৃশংসভাবে খুন করে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ ও সন্তান নিয়ে দ্বন্দ্বের পাশাপাশি এই ঘটনার নেপথ্যে জমি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।