‘মমতার পায়ে ফ্র্যাকচারই হয়নি!’-২০২১-এর সেই ঘটনার মেডিক্যাল রিপোর্ট ফাঁস করলেন শুভেন্দু

সালটা ২০২১। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ তখন তুঙ্গে। নন্দীগ্রামের প্রচারে গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট পাওয়ার সেই ঘটনা আজও রাজনৈতিক মহলের চর্চায়। হুইলচেয়ারে বসে গোটা রাজ্য চষে বেড়ানোর সেই দৃশ্য কার না মনে আছে! কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সেই ঘটনা নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চরম শোরগোল ফেলে দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন, ২০২১ সালে পায়ের চোটের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং মিথ্যা প্রচার ছিল।
কী দাবি করলেন শুভেন্দু?
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন এবং ৯ অক্টোবর ভোটগণনা রয়েছে। বর্তমানে আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকায় সরাসরি কোনও আইনি পদক্ষেপের কথা না বললেও, শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে নির্বাচনী বিধি উঠে যাওয়ার পর এই ঘটনার সিআইডি তদন্ত করা হবে।
সাংবাদিক বৈঠকে একটি মেডিক্যাল রিপোর্ট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিআইডি তদন্ত করছে। নির্বাচনী বিধি উঠে যাওয়ার পর এই মিথ্যা প্রচারের তদন্ত করা হবে। ২০২১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী গোটা নন্দীগ্রামকে অপমান করেছিলেন। বলা হয়েছিল, তাঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমার কাছে ১১.০৩.২০২১ তারিখের বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের রিপোর্ট রয়েছে। সেখানে পায়ে ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশনের কোনও প্রমাণ নেই।”
তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে তিনি ভবানীপুর এলাকার এসএসকেএম হাসপাতালের কমিটির সভাপতি। যদিও এক্স-রে প্লেট রোগীর হাতে তুলে দেওয়া হয়, তবুও হাসপাতালের কাছে রিপোর্টের একটি কপি থেকে যায়। আর সেই গোপনীয় নথিই এখন তাঁর হাতে এসে পৌঁছেছে, যেখানে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে— ‘নো ফ্র্যাকচার’।
২০২১ সালে আসলে কী ঘটেছিল?
স্মৃতির পাতা উল্টে দেখলে মনে পড়বে, ২০২১ সালের ১০ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ার রেয়াপাড়ায় চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। সে সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, গাড়ির ফুটবোর্ডে দাঁড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় ৪-৫ জন মিলে জোর করে গাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়, যার ফলে তাঁর পায়ে গুরুতর চোট লাগে। এরপর তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সে সময় চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি, হাড়, সফট টিস্যু এবং লিগামেন্টে গুরুতর চোটের কথা জানিয়েছিলেন। ১২ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দীর্ঘ দিন তাঁর পায়ে প্লাস্টার ছিল এবং পরবর্তী সমস্ত নির্বাচনী প্রচার তিনি হুইলচেয়ারেই সেরেছিলেন।
রিপোর্ট নিয়ে ধোঁয়াশা ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
বাঙুর ইনস্টিটিউটের ১১ মার্চের রিপোর্টে যেখানে ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশনের কোনও উল্লেখ নেই, অথচ পরবর্তী চিকিৎসা নথিতে হাড় ও লিগামেন্টে চোটের কথা বলা হয়েছে— এই দুই রিপোর্টের ফারাক ঘিরেই এখন দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিকে ফের কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার!