হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যে তুলকালাম! জুতোর মালা পরিয়ে কুশপুত্তলিকা দাহ ও প্রতীকী কবর দিল বিজেপি

রাজ্য রাজনীতিতে শাসক দলের নেতার বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে ফের একবার পারদ চড়ল চরম মাত্রায়। তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সম্প্রতি দেওয়া একটি প্রকাশ্য বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদে এবার রাস্তায় নেমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বুকে যুব মোর্চার উদ্যোগে শাসক নেতার বিরুদ্ধে এক ঝাঁঝালো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। হাতে কালো পতাকা নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা সিটি সেন্টার এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তৃণমূল নেতার কুশপুত্তলিকায় জুতোর মালা পরিয়ে প্রতীকী কবর দেওয়ার মতো নজিরবিহীন কর্মসূচি পালন করেন ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি হুমায়ুন কবীর একটি জনসভায় যে সমস্ত মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, এই ধরণের বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পক্ষে হানিকর এবং সরাসরি উসকানিমূলক। সেই ক্ষোভের রেশ ধরেই দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের প্রধান রাস্তায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে বিজেপি যুব মোর্চা। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। পুলিশের উপস্থিতিতেই চলে এই তীব্র প্রতিবাদ। বিজেপির পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, শাসক দলের নেতারা যেভাবে লাগাতার প্ররোচনামূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রেখে চলেছেন, তা সাধারণ মানুষ বরদাস্ত করবে না। প্রয়োজনে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে দল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সরাসরি কুশপুত্তলিকায় জুতোর মালা পরিয়ে প্রতীকী কবর দেওয়ার ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিল। একদিকে যখন শাসক দল বিরোধী আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই ধরনের প্রতিবাদী কর্মসূচি রাজ্যজুড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা এবং শাসক দলের তরফ থেকে এই প্রতিবাদের জবাবে কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সমস্ত মহলের। দুর্গাপুর জুড়ে এই ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।