‘গণতন্ত্রের কপালে ফের শনি!’ নন্দীগ্রামে কংগ্রেস নেতা ও সমাজকর্মীকে আটকের ঘটনায় ফুঁসে উঠলেন শুভঙ্কর-প্রকাশ যোশী

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার পথে দুই বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতাকে আটক করল পুলিশ। ধৃত বা আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট লেখক ও সমাজকর্মী মানিক ফকির এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম মুখ সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের সমর্থনে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছিলেন মানিক ফকির ও সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস। কখনও হলদিয়া, আবার কখনও চণ্ডীপুর বা নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তাঁরা প্রচারের ঝড় তুলেছিলেন। বুধবার চণ্ডীপুরের একটি গেস্ট হাউস থেকে বের হওয়ার পরই তাঁদের আটক করে নন্দীগ্রাম থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মানিক ফকিরকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ঠিক কী সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

এই ঘটনার পরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এক জরুরি প্রেস বিবৃতিতে বলেন, “শুধুমাত্র কংগ্রেসের প্রচার করার অপরাধেই মানিক ফকির ও সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসের ওপর এই প্রতিহিংসামূলক আচরণ নেমে এসেছে। আমরা এই অন্যায় আটকের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের দমনপীড়ন চালিয়ে মিলন প্রধানের প্রচার আটকানো যাবে না এবং এই ঘটনা প্রমাণ করে যে বাংলার গণতন্ত্র আজ এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, এআইসিসি-র পশ্চিমবঙ্গের ইনচার্জ তথা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য প্রকাশ যোশী এই ঘটনাকে ‘অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস ও প্রার্থী মিলন প্রধানকে নিয়ে কেন এত আতঙ্ক তৈরি হয়েছে?

উল্লেখ্য, এর আগে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ২০০৭ সালের একটি পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। নিম্ন আদালত তাঁকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিলেও, মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। প্রার্থী জেলমুক্ত হয়ে প্রচারের ময়দানে নামার ঠিক আগেই তাঁর দুই হেভিওয়েট প্রচারককে আটকের এই ঘটনায় নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। অবিলম্বে দুই নেতাকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস শিবির।