৫ লক্ষ টাকার ফ্রি চিকিৎসা! স্বাস্থ্য সাথীর পর এবার রাজ্যবাসীর জন্য বড় উপহার, কীভাবে মিলবে কার্ড?

পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিধি আরও প্রসারিত করতে রাজ্যজুড়ে জোরকদমে শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী আয়ুস্মান ভারত যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমা যোজনা। কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এবং রাজ্যের নিজস্ব প্রচেষ্টায় চালু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য পরিবার প্রতি বছর পেয়ে যাবেন ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাশলেস (নগদহীন) চিকিৎসার সুবিধা। সাধারণ মানুষের কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে প্রশাসন।
কোন কোন হাসপাতালে মিলবে এই সুবিধা?
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের অন্তত ১৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ মিলবে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশের অন্য রাজ্যের যেকোনো তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে গেলেও এই কার্ডের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। জাতীয় পোর্টেবিলিটির ব্যবস্থা থাকায় দেশের যেকোনো কোণ থেকেই এই পরিষেবা গ্রহণ করা সম্ভব।
কীভাবে আবেদন করবেন?
এই কার্ডের সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের জন্য আবেদনপত্র বা ফর্ম স্থানীয় আশাকর্মীদের কাছে পাওয়া যাবে। সঠিকভাবে ফর্ম পূরণের পর তা আশাকর্মীদের কাছে জমা দিলেই তাঁরা নিজ দায়িত্বে সেই ফর্ম বিডিও (BDO) অফিস বা পৌরসভায় পৌঁছে দেবেন। পরবর্তী ধাপে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হওয়ার পর অনলাইন মাধ্যম অথবা আশাকর্মীদের হাত ধরেই কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।
কী কী চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে?
এই স্বাস্থ্যবীমা কার্ডের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, আগে থেকে থাকা বিভিন্ন রোগ বা প্রি-এক্সিস্টিং কন্ডিশনের ক্ষেত্রে প্রথম দিন থেকেই কভারেজ পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগের চিকিৎসায় আলাদা করে কোনো অপেক্ষার সময়সীমা নেই। তাছাড়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের তিন দিন এবং হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরের ১৫ দিনের নির্দিষ্ট চিকিৎসা খরচও এই বীমার আওতাভুক্ত রাখা হয়েছে। বিশেষ এই প্রকল্পে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বয়স কিংবা লিঙ্গের ওপর কোনো ধরনের ঊর্ধ্বসীমা বা বাধা নেই।
কারা পাবেন এই সুবিধার সুযোগ?
মুখ্যমন্ত্রী আয়ুস্মান ভারত যোজনার জন্য যোগ্যতার মূল মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১১ সালের সোশিও-ইকোনমিক কাস্ট সেন্সাস (SECC 2011) বা আর্থ-সামাজিক জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে। গ্রামীণ এলাকার নির্দিষ্ট কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী পরিবার, পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য না থাকা পরিবার, ভূমিহীন দিনমজুর এবং নির্দিষ্ট তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST) ভুক্ত পরিবারগুলি এই প্রকল্পের আওতায় অগ্রাধিকার পাবে।