মৃত বাবাকে ফের জীবিত করার অবাস্তব আশা! ডিপ ফ্রিজে ৪ বছর ধরে লুকিয়ে রাখা হলো বৃদ্ধের দেহ

মুম্বইয়ের মালাডের কোঙ্কনি পাড়ার একটি বন্ধ ক্লিনিক থেকে প্রায় চার বছর ধরে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষিত এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা দেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৮০ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এবং ২০২২ সালের জুন মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা সেই সময় স্বাভাবিক মৃত্যুর শংসাপত্র দিলেও এবং নিয়মমাফিক বিএমসি থেকে ডেথ সার্টিফিকেট নেওয়া হলেও, পরিবারের লোকজন তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন না করার সিদ্ধান্ত নেন।
মৃত ব্যক্তির মেয়ের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক ছিল। বাবার আকস্মিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি তিনি। ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান আরও উন্নত হলে ক্রায়োনিক্স প্রযুক্তির সাহায্যে ওই বৃদ্ধকে ফের জীবিত করা সম্ভব হবে—এই অবাস্তব ও আজব আশাতেই পরিবারটি দেহটি সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা করে। ক্রায়োনিক্স এমন এক পরীক্ষামূলক পদ্ধতি, যেখানে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হয়। জানা গিয়েছে, এই উদ্দেশ্যে পরিবারটি আমেরিকার একটি বিশেষ ক্রায়োনিক্স সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। পরিকল্পনা ছিল, পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ হলেই দেহটি আমেরিকায় পাঠানো হবে। এই দীর্ঘ চার বছর ধরে প্রতি মাসে প্রায় ১.৬ লক্ষ টাকা খরচ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ভাড়া দিত ওই পরিবার।
সম্প্রতি ক্লিনিকটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ভবনটি পুনর্নির্মাণের জন্য খালি করার কাজ শুরু হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এবং তীব্র দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মালাডের কুরার থানার পুলিশ ওই ক্লিনিকে হানা দেয়। তল্লাশি চালিয়ে ডিপ ফ্রিজার থেকে বৃদ্ধের পচাগলা দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, এত দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের গোপন সংরক্ষণ সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে ওয়াকিবহাল করা হয়নি। মৃতের স্ত্রী ও সন্তানরা মুম্বইয়েরই বাসিন্দা হলেও তাঁদের নাম-পরিচয় আপাতত গোপন রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ভারতের আইনগত এবং চিকিৎসাগত নিয়মনীতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ সংরক্ষণ করার বৈধতা এবং এর স্বাস্থ্যগত দিকগুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, কুপার হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। মরদেহটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি জটিলতা কাটলেই শেষকৃত্যের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।