শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গীর খুনের বদল নাকি মাস্টারপ্ল্যান? নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির বাজি কে?

শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া আসন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল গেরুয়া শিবির। নন্দীগ্রামে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ, যিনি একসময় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই মুহূর্তে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার হলদিয়ার সিটি সেন্টারে মহকুমা শাসক বা এসডিও অফিসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। যার মধ্যে গোটা রাজ্যের নজর রয়েছে বিজেপির মনোনয়ন পর্বের দিকে। অন্যদিকে, রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে পদ্মফুল প্রতীকে প্রার্থী করা হয়েছে মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা দলের রাজ্যমিতি সদস্য শাখারভ সরকারকে।
কেন হাসিরানি রথকে প্রার্থী করা হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। নিহত চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত আপ্তসহায়ক। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক দুদিন পর গত ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাদু রোডের কাছে নিজের গাড়িতেই দুষ্কৃতীদের গুলিতে নৃশংসভাবে খুন হন তিনি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরই পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে চন্দ্রনাথের বাড়িতে গিয়ে তাঁর শোকস্তব্ধ মায়ের সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সেই সময় শোকার্ত পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার এবং ঘটনার যথাযথ সিবিআই তদন্তের আশ্বাস দেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের সিট থেকে এই মামলার তদন্তভার যায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে। উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষিত হওয়ার পর হাসিরানি রথ জানান যে দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা তিনি পালন করবেন এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
২০২৬ সালের এই নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিজেপির টিকিটে লড়ছেন হাসিরানি রথ। অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রার্থী হয়েছেন সঞ্চিতা প্রধান দে এবং ঋতব্রত শিবিরের হয়ে লড়ছেন মহম্মদ এতেশামুল হক। বামফ্রন্টের তরফে সিপিআই প্রার্থী হিসেবে ময়দানে রয়েছেন শান্তিগোপাল গিরি। এছাড়া আইএসএফের টিকিটে লড়ছেন আলী মহম্মদ সবে মিরাজ খান এবং কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। আগামী ৬ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রসঙ্গত, ২০26 সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম আসনেই শুভেন্দু অধিকারী ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৩০১টি ভোট অর্থাৎ ৫০.৩৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের পবিত্র কর পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৩৬টি ভোট। ৯ হাজার ৬৬৫টি ভোটের ব্যবধানে সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান উপনির্বাচনে বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত। তবে আসল লড়াই চলছে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করা নিয়ে। রাজ্যের শাসকদল কি তাদের দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখতে পারবে, নাকি বামেরা কিংবা অন্য কোনো শিবির সেই জায়গা দখল করবে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।