গণেশ পুজোয় আনন্দের মাঝেই রক্তে ভিজল ইন্দোর! নাচ নিয়ে সামান্য বচসায় প্রাণ গেল ১৬ বছরের কিশোরের

মধ্যপ্রদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী তথা অত্যন্ত সংবেদনশীল শহর ইন্দোর থেকে গণেশ উৎসবের ঠিক প্রাক্কালে এক হাড়হিম করা নৃশংস ঘটনা সামনে এসেছে। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে বিষাদে পরিণত হয়েছে। শহরের আজাদ নগর থানা এলাকায় ভগবান শ্রী গণেশের মূর্তি স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও ডিজে গানের তালে নাচানাচিকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ বাধে। সেই সামান্য ধাক্কাধাক্কির বচসা নিমেষেই এক খूनी সংঘর্ষের রূপ নেয় এবং এক উগ্র যুবকের আকস্মিক ও নৃশংস চাকু চালনায় মাত্র ষোলো বছর বয়সি এক কিশোর ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। এই আকস্মিক হামলায় অপর এক কিশোর গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, গত সোমবার গভীর রাতে আজাদ নগর এলাকায় গণেশ মূর্তির আগমন উপলক্ষে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশাল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে এক শোভাযাত্রা বের করেছিলেন। রাস্তার মাঝে চলমান ডিজে গাড়ির উচ্চস্বরে বাজানো গানের তালে যখন যুবকরা আনন্দে নাচছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই ভিড়ের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কি নিয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে ত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি নিজের কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র বা ছুরি বের করে দুই নাবালক বন্ধুর ওপর নির্বিচারে ও উপর্যুপরি হামলা চালায়।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাজেশ দন্ডোতিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, সরাসরি বুকে ও শরীরের সংবেদনশীল স্থানে চাকুরের আঘাত লাগার ফলে ঘটনাস্থলেই ষোলো বছর বয়সি কিশোর কৃষ্ণার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, তার সঙ্গে থাকা অপর এক নাবালক বন্ধুও গুরুতর জখম হয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জখম কিশোরকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং সে বিপদমুক্ত বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রকাশ্য রাস্তায় দুই নাবালক বন্ধুর ওপর এই পৈশাচিক হামলা চালানোর অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেও সম্ভবত একজন নাবালক। এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘাতক অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে উৎসবের রঙিন সাজে সেজে ওঠা জনপদ এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর গভীর শোক ও স্তব্ধতায় ডুবে গেছে। মৃত কিশোর কৃষ্ণার পরিবারে চলছে কান্নার রোল। এই ধরনের উৎসবের মরশুমে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন যে, আগামীতে এ ধরনের বড় জমায়েত ও শোভাযাত্রাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়াতে হবে এবং উৎসবের সুযোগ নিয়ে যারা ধারালো অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, সেই সমস্ত দুষ্কৃতী ও সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।