‘৬ অক্টোবর আপনাদের পরীক্ষা!’ উপনির্বাচনের মুখে সংখ্যালঘুদের বিরাট চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

আসন্ন ৬ অক্টোবরের বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের রাজনীতি। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের এক জনসভা থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশ্যে এক প্রকার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যে সব সংখ্যালঘু ভোটার বিজেপি বা তাঁর ঝুলিতে ভোট দেন না, তাঁদের জন্য আগামী উপনির্বাচনকেই ‘পরীক্ষার দিন’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

জনসভার মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “যাঁরা আমাকে বা বিজেপি-কে ভোট দেন না, সেই সংখ্যালঘুদের একটা আবেদন জানাব। আপনাদের সামনে সরকারে সঙ্গে থাকার এক বিরাট সুযোগ এসেছে। আপনারা সরকারের সঙ্গে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হাত শক্ত করবেন, নাকি বাইরে থাকবেন— তা ঠিক করার দিন ৬ অক্টোবর। সেদিন রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে আপনাদের পরীক্ষা। পরীক্ষায় পাশ করবেন না ফেল করবেন, তা আপনাদের ব্যাপার।” একই সঙ্গে দুটি আসনেই জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী বলে দাবি করেন তিনি।

শুভেন্দুর এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা:

  • তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাজ্যের একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি এই ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারের সঙ্গে না থাকলে কি উন্নয়ন হবে না? রাজ্যের ৫৪ শতাংশ মানুষ যাঁদের ভোট দেয়নি, তাঁদের জন্য কি কাজ হবে না?” অন্যদিকে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, “হারের ভয়ে পুলিশ দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে বিজেপি। রেজিনগরে মাঝরাতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে।”

  • কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া: প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, “শেষ সুযোগ মানে কী? ভোট না দিলে কি তাঁদের ক্ষমা করা হবে না? একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মুখে এ হেন বক্তব্য একেবারেই শোভা পায় না।”

উপনির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক পারদ তত দ্রুত চড়ছে। এবার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক কোন দিকে ঢলে পড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।