বসিরহাটের হাড়োয়ায় তাক লাগাল সম্প্রীতি! গণেশ চতুর্থীতে হাত ধরাধরি করে পুজো দিলেন হিন্দু-মুসলিম

বসিরহাটের হাড়োয়ায় সম্প্রীতির এক অনন্য ও বিরল ছবি ধরা পড়ল এ বছরের গণেশ চতুর্থীর উৎসবে। যেখানে সারা দেশে বিভেদের নানা খবর শিরোনামে আসে, সেখানে উত্তর চব্বিশ পরগনার এই জনপদ প্রমাণ করে দিল যে উৎসব কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং তা সমস্ত মানুষের। জাতি, ধর্ম এবং বর্ণের সমস্ত রকম সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে মেতে উঠলেন গণেশ আরাধনায়। এই দৃশ্য শুধুমাত্র এলাকার মানুষের মন জয় করেনি, বরং বর্তমান সমাজকে এক নতুন বার্তা উপহার দিয়েছে।

হাড়োয়া থানার অন্তর্গত হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আন্ধিরর মাঠ কালিতলা মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই গণেশ পুজো চলতি বছরে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে তার অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করেছে। উৎসবের এই বিশেষ দিনে সকাল থেকেই পুজো প্রাঙ্গণে এলাকার মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই উৎসবে অংশ নেন। পুজো মণ্ডপের চারপাশের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন।

এই গণেশ পুজোকে ঘিরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি ছিল স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের অত্যন্ত সক্রিয় এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তারা কেবল পুজো দেখতেই আসেননি, বরং পুজোর নানা আয়োজনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। ঢাকের বাদ্য আর মন্ত্রোচ্চারণের মাঝে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের এই মেলবন্ধন উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। পুজো সম্পূর্ণ হওয়ার পর উপস্থিত সমস্ত ভক্ত ও সাধারণ মানুষের হাতে বিশেষ প্রসাদ তুলে দেওয়া হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এদিনের এই আয়োজন মানবতা, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল ও স্থায়ী বার্তা স্থাপন করল।