কৌশিকী অমাবস্যার পরেই খালি তারাপীঠের গর্ভগৃহ! কোথায় সরানো হলো মা তারার বিগ্রহ?

কৌশিকী অমাবস্যার মহা উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই বীরভূমের বিখ্যাত তারাপীঠ মন্দিরে শুরু হলো বড়সড় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। বহু প্রতীক্ষিত সংস্কার কাজের জন্য সাময়িকভাবে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মা তারার ঐতিহ্যবাহী বিগ্রহ। সোমবার গভীর রাতে ধর্মীয় রীতি ও নিয়ম মেনে দেবীকে পাশের শিবমন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগামী প্রায় এক মাস ভক্তরা সেখানেই মায়ের দর্শন ও পুজো আর্চনা করতে পারবেন।

কেন এই আকস্মিক স্থানান্তর?

মন্দির কমিটি সূত্রে খবর, কৌশিকী অমাবস্যায় লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। সেই মেগা ইভেন্ট নির্বিঘ্নে মেটার পরেই মন্দির সংস্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের পরামর্শ ও কারিগরি নির্দেশিকা মেনেই মন্দিরের ভেতর ও বাইরের অংশের সৌন্দর্য ও পরিকাঠামো জোরদার করা হচ্ছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সংস্কারের কাজে আর্থিক সহায়তা করছেন তারাপীঠ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা জগন্নাথ রায়ের বর্তমান বংশধরেরা, যার জন্য মন্দির কমিটির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এনওসি’ (NOC) দেওয়া হয়েছে।

সংস্কার কাজে বড় পরিবর্তন ও ভক্তদের সুবিধা:

বিশেষ করে নাটমন্দির থেকে মাকে দর্শনের ক্ষেত্রে যে অসুবিধা হতো, তা স্থায়ীভাবে দূর করতেই এই সংস্কার। বয়স্ক ও প্রবীণ পুণ্যার্থীরা যারা ভিড়ের কারণে গর্ভগৃহে ঢুকতে পারেন না, তাঁদের কথা মাথায় রেখে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

  • দরজার উচ্চতা বৃদ্ধি: মন্দিরের প্রবেশদ্বার প্রায় ১ ফুট উঁচু করা হচ্ছে।

  • বেদির উচ্চতা বদল: নাটমন্দির থেকে যাতে মায়ের রূপ স্পষ্ট দেখা যায়, তাই মা তারার মূল বেদিটি প্রায় ৮ ইঞ্চি উঁচু করা হচ্ছে।

কবে ফের গর্ভগৃহে ফিরবেন মা?

মন্দির কমিটি স্পষ্ট করেছে যে, বিগ্রহ সরানো হলেও ভক্তদের পুজো, আরতি বা ভোগ নিবেদনে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। পাশের শিবমন্দির থেকেই সমস্ত নিত্যপূজা এবং দর্শনের ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মহালয়ার আগে বা মহালয়ার পুণ্য তিথিতে মা তারার বিগ্রহ পুনারায় মূল গর্ভগৃহে সসম্মানে প্রতিষ্ঠা করা হবে।