ফুটপাত জবরদখল করলে আর রেহাই নেই! হাতে মাইক নিয়ে রাস্তায় নেমে কড়া বার্তা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার

বিধাননগর পুরনিগম এলাকার রাস্তায় নেমে জবরদখল ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে একেবারে কঠোর অবস্থান নিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। হাতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে সল্টলেকের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ফুটপাত দখল করে পার্কিং, নির্মাণসামগ্রী রাখা কিংবা বেআইনিভাবে দোকান বসানো—কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দ্ব্যর্থহীন নির্দেশ, সাধারণ মানুষের হাঁটার সুবিধার জন্য অবিলম্বে ফুটপাত খালি করে দিতে হবে।
মঙ্গলবার সল্টলেকের সিএ (CA) মার্কেটে একটি পরিবেশবান্ধব কাপড়ের ব্যাগের ভেন্ডিং মেশিনের উদ্বোধনে যোগ দেন অগ্নিমিত্রা পাল। ওই মেশিন থেকে মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে সাধারণ মানুষ কাপড়ের ব্যাগ সংগ্রহ করতে পারবেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেই হাতে হ্যান্ডমাইক তুলে নিয়ে সরাসরি বাজারে নেমে পড়েন তিনি। প্রথমে সিএ মার্কেটে মাইকিং করে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার না করার জোরালো আবেদন জানান। পাশাপাশি বাজার এলাকা সবসময় পরিষ্কার রাখা, যেখানে-সেখানে থুতু না ফেলা এবং সামগ্রিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারেও সকলকে সতর্ক করেন।
বাজার পরিদর্শন শেষে তিনি ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কড়া নির্দেশ দেন। মার্কেটের বাইরে যাতে কোনওভাবেই বেআইনিভাবে দোকান বা জটলা না বসে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া এলাকায় চলা অবৈধ স্পা এবং অনুমতি ছাড়া লজ পরিচালনার অভিযোগ নিয়েও পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন তিনি। এরপর চলন্ত গাড়ি থেকে হ্যান্ডমাইক হাতে নিয়ে গোটা এলাকায় ঘুরে ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা দেন মন্ত্রী। কোথাও ফুটপাতের ওপরে গাড়ি পার্ক করা, কোথাও আবার বাড়ি তৈরির ইট, বালি, সুরকি ফেলে রাস্তা আটকে রাখার দৃশ্য নজরে আসতেই তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অগ্নিমিত্রার সাফ বার্তা, রাস্তা বা ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা, তাই তা জবরদখলমুক্ত রাখতে হবে। যত্রতত্র বেআইনি পার্কিং করলে কড়া জরিমানা ধার্য করা হবে এবং রাতের বেলায় রাস্তায় অবৈধভাবে গাড়ি পার্ক করে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নাইট পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট শুল্ক দিয়ে গাড়ি রাখতে হবে। এছাড়া কোথাও জল জমা, আবর্জনা জমে থাকা কিংবা খালি জমিতে জঙ্গল পরিষ্কার রাখার ব্যাপারেও পৌরনিগম ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বাড়ি তৈরির সময় রাস্তার ধারে ইট-বালি ফেলে রাখা যাবে না বলে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি হকারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ব্যবসার জন্য ফুটপাতের একটি নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহারের পর বাকি অংশ সম্পূর্ণভাবে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফাঁকা রাখতে হবে।