টেস্ট ফর্ম ফেরাতে মরিয়া বাবর আজম! দীর্ঘ ৭ বছর পর আচমকাই ঘরোয়া ক্রিকেটে কামব্যাক পাক তারকার

পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার তথা টেস্ট দলের সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম তাঁর দীর্ঘদিনের টেস্ট ফর্মের খরা কাটাতে এবং নিজের হারানো ছন্দ ফিরে পেতে দীর্ঘ সাত বছর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করতে চলেছেন। ক্রিকইনফো সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাবর আজম চলমান প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১ প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে ‘অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’ (OGDCL)-এর হয়ে গেস্ট প্লেয়ার হিসেবে মাঠে নামবেন। দীর্ঘ ফরম্যাটে নিজের টেকনিক্যাল দুর্বলতা ও রান খরা কাটিয়ে ওঠার জন্য বাবর নিজেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) কাছে ঘরোয়া দলে খেলার জন্য বিশেষ আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই অনুরোধের পরেই পিসিবি ওজিসিডিএলের সঙ্গে তাঁর এই খেলার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটে বাবর আজমের পারফরম্যান্স গ্রাফ উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী। তাঁর শেষ টেস্ট শতরানটি এসেছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, যেখানে তিনি ১৬১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের শুরু থেকে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং গড় মাত্র ৩০.৪3, যা তাঁর সামগ্রিক কেরিয়ার গড়ের তুলনায় ১২ রানেরও কম। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলা ৩৯টি ইনিংসে তিনি মাত্র আটটি অর্ধশতরান করতে পেরেছেন। এমনকি এমন একটি হতাশাজনক সময়ও গিয়েছে যেখানে টানা ১৮ ইনিংসে তিনি ৪১ রানের গণ্ডি পার করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
যদিও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে যে সেই আটটি অর্ধশতরানের মধ্যে চারটিই এসেছে তাঁর শেষ পাঁচটি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে, তবুও শেষ শতরানের পর থেকে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস মাত্র ৮৮ রানের। গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক জয়ের সময় তিনি এই রানটি করেছিলেন। সেই জয় পাকিস্তানের টানা আটটি বিদেশি টেস্ট হারের লজ্জাজনক সিলসিলা ভাঙার পাশাপাশি জুলাই ২০২৩-এর পর তাদের প্রথম বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় এনে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও, ক্রিজে থিতু হওয়ার পরেও ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে রূপান্তর করতে না পারা বাবর এবং পাকিস্তান দলের জন্য একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে বাবর আজমের এই ক্রমবর্ধমান ফর্মহীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। প্রাক্তন ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষকরা তাঁর ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে কাটাছেঁড়া করছেন এবং প্রকাশ্যেই তাঁর অফ-ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে (যেটিতে পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়) এই চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। লর্ডস এবং এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের পেসাররা অত্যন্ত সুচারুভাবে শর্ট-পিচ ডেলিভারির বিরুদ্ধে বাবরের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। যদিও চোটের কারণে হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে খেলতে পারেননি তিনি। এখন দেখার বিষয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের এই মঞ্চে নেমে বাবর আজম তাঁর চেনা ফর্মে ফিরতে পারেন কি না।