পাক মন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফি নেব না! ভারতীয় দলের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে শোরগোল

গত বারো মাস ধরে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এক তীব্র কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে ক্রিকেট ময়দানে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করেছে ভারতীয় পুরুষ এবং মহিলা—উভয় ক্রিকেট দলই। রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নাকভির লাগাতার ভারত-বিরোধী অবস্থানের জেরে ২০২৫ সালে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন পুরুষ দল প্রথম এই ঐতিহাসিক বয়কটের নজির গড়েছিল। ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে সম্প্রতি, যখন শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে এশিয়া কাপ জয় করে হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় মহিলা দল। ফাইনালে জয়লাভের পরেও সেই একই কারণে ট্রফি ভারতীয় দলের হাতে এসে পৌঁছয়নি, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, মহসিন নাকভি পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থিত থাকলে ভারতীয় দল তাঁর থেকে কোনোভাবেই ট্রফি গ্রহণ করবে না, এই বিষয়টি বিসিসিআই আগেই এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) কর্তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল। রবিবারের ফাইনালের পর অবশ্য ট্রফি মঞ্চে আনা হয়নি। তবে গোটা এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন যে, যথাযথ সরকারি এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বোর্ড অদূর ভবিষ্যতে এই দুটি ট্রফিই হাতে পাওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ আশাবাদী। সাইকিয়া স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ আল জারুনির হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল ভারতীয় মহিলা দল। কিন্তু পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি সেই সম্মানজনক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় বিসিসিআই আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে দাঁড়ানোর কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আরও বলেন, ‘আমরা প্রায় দেড় বছর আগে ছেলেদের এশিয়া কাপের ফাইনালে যে অনমনীয় অবস্থান নিয়েছিলাম, ঠিক সেই একই অবস্থান বজায় রেখেই আমরা আজকের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের অংশ হতে চাইনি। আমাদের বহু সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে আমরা নিজেদের অবস্থানে অটুট থেকেছি। আমরা নিরপেক্ষভাবে অনুরোধ করেছিলাম যাতে এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান স্বয়ং আমাদের হাতে ট্রফিটি তুলে দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, সেই সহজ প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি। তাই দেশের স্বার্থে এবং জাতীয় সম্মান বজায় রাখতে আমাদের এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বয়কট করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প উপায় ছিল না।’

অবশ্য ট্রফি দুটি শেষ পর্যন্ত ভারতের হাতে আসবে কি না, তা নিয়ে দেশের সমস্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করেছেন বিসিসিআই সচিব। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এশিয়া কাপে এই দুর্দান্ত জয়ের জন্য ভারতীয় মহিলা দলকে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। দেশের প্রতিটি কোণায় কোটি কোটি ক্রিকেট অনুরাগী আমাদের লড়াকু মেয়েদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে অত্যন্ত গর্বিত। সাইকিয়া অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, একটু সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রাপ্য দুটি ট্রফিই ভারতের মাটিতে ফিরিয়ে আনব। তবে ট্রফি হাতে পাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা ডেডলাইন তিনি এই মুহূর্তে জানাতে পারেননি।