বিদেশের মাটিতে বাংলার জয়জয়কার! থাইল্যান্ডের বিশ্বমঞ্চে যোগাসনে সোনা জয়ের লড়াইয়ে বাজিমাত দুই খুদের

বিদেশের মাটিতে ফের একবার ভারতের নাম উজ্জ্বল করল বাংলার দুই কৃতি সন্তান। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে সদ্য সমাপ্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত হলো মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়া স্পেশিফিক যোগাসন স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’। গত ৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় সুদূর থাইল্যান্ডের মাটিতে অনবদ্য নৈপুণ্য দেখিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা এলাকার দুই খুদে প্রতিভাবান যোগাসনাভিজ্ঞ বালক। তাদের এই অভাবনীয় সাফল্যে কেবল তাদের পরিবার বা গ্রামই নয়, গোটা রাজ্য তথা দেশ আজ গর্বিত। অর্থনৈতিক প্রতিকূলতাকে জয় করে কীভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে হয়, তা দেখিয়ে দিল বাংলার এই উদীয়মান তারকারা।
প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই খুশির হাওয়া বইছে বাগদার প্রত্যন্ত গ্রামে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক যোগা প্রতিযোগিতার ‘সাব জুনিয়র গ্রুপ বি’ বিভাগে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে মামাভাগ্নে গ্রামের বাসিন্দা পিযুষ মণ্ডল। সে জিতেছে দেশের জন্য মূল্যবান রূপোর পদক। অন্যদিকে, একই প্রতিযোগিতার ‘সাব জুনিয়র গ্রুপ এ’ বিভাগে দুর্দান্ত লড়াকু মানসিকতা দেখিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে দেবা বিশ্বাস। দুই খুদের এই পদক জয়ের খবর পৌঁছতেই তাদের নিজ নিজ বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
পিযুষের মা সোমা মণ্ডল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁর ছেলে মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে যোগা প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছে। বাগদার মতো একটি সাধারণ ও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে এই সাফল্য অর্জন করা তাঁদের পরিবারের কাছে রূপকথার মতো। অন্যদিকে, দেবার পরিবারে সংগ্রামের চিত্রটি আরও স্পষ্ট। দেবার বাবা পেশায় একজন সাধারণ দর্জির কাজ করেন। আর্থিক অনটনের কারণে ছেলের এই বিদেশ যাত্রা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে বাগদার স্থানীয় বিধায়ক সোমা ঠাকুরের উদার আর্থিক সহযোগিতার ফলেই আজ দেবা থাইল্যান্ডে গিয়ে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং দেশের জন্য মেডেল জিতে এনেছে।
শিক্ষক সুভাষ হালদার এই প্রসঙ্গে বলেন, বিধায়ক সোমা ঠাকুর যেভাবে এই খুদে প্রতিভাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার ফলেই আজ এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতেও যদি কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের এভাবেই পাশে পাওয়া যায়, তবে তারা আরও বড় বড় সাফল্য ছিনিয়ে আনবে। একজন শিক্ষকের কাছে তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের এই বিশ্বজয়ই সবচেয়ে বড় সার্থকতা।