১৩ বছরের আইনি যুদ্ধের অন্ত! সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশেই অবশেষে আত্মসমর্পণ করলেন ‘তেহেলকা’র প্রতিষ্ঠাতা তরুণ তেজপাল

দীর্ঘ তেরো বছর ধরে চলা অত্যন্ত হাই-প্রোফাইল এক আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কড়া নির্দেশ মেনে গোয়ার মাপুসা আদালতে সশরীরে এসে আত্মসমর্পণ করলেন দেশের আলোড়ন ফেলা বিতর্কিত ম্যাগাজিন ‘তেহেলকা’র প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপাল। এক সহকর্মীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্ট তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। ওই কঠোর সাজা এড়ানোর উদ্দেশ্যে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হলেও, শীর্ষ আদালতের বেঁধে দেওয়া কঠোর ডেডলাইনের মধ্যেই সোমবার সকালে নিরুপায় হয়ে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন তিনি।

বম্বে হাইকোর্টের একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গত অগস্ট মাসে বিচারবিভাগীয় সেশনস কোর্টের পুরনো রায় সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে তরুণ তেজপালকে অভিযুক্ত ঘোষণা করেছিল। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য ‘তেহেলকা’র প্রাক্তন সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন। কিন্তু গত ২৫ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিল যে, মামলার শুনানির প্রাথমিক শর্ত হিসেবে তাঁকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের যাবতীয় নথি আদালতে জমা পড়লেই কেবল ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর মামলার পরবর্তী শুনানি গ্রহণ করবে সর্বোচ্চ আদালত। সেই আইনি বাধ্যবাধকতার জালেই আটকে সোমবার সকালে মাপুসা আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে হাজির হন তেজপাল।

এই হাই-প্রোফাইল ঘটনার মূল সূত্রপাত ঘটেছিল আজ থেকে তেরো বছর আগে অর্থাৎ ২০১৩ সালে। গোয়ার একটি নামী পাঁচতারা হোটেলের লিফটের ভেতরে নিজেরই এক তরুণী সহকর্মীকে যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন অত্যন্ত প্রভাবশালী এই সাংবাদিক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং ২০১৪ সালে গোয়া পুলিশের অপরাধদমন শাখা প্রায় তিন হাজার পৃষ্ঠার এক দীর্ঘ চার্জশিট আদালতে পেশ করে। যদিও সেই বছরের জুলাই মাসেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছিলেন তেজপাল।

পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে গোয়ার একটি সেশনস কোর্ট তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার একাধিক ধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করে। ২০১৯ সালে মামলার চার্জশিট খারিজ করার জন্য তেজপালের সমস্ত আর্জি সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। এর পর ২০২১ সালের গোয়ার সেশনস কোর্ট তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস করে দিলেও, চলতি বছরের অগস্ট মাসে বম্বে হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে।