“মাদ্রাসায় সব কিছুই সন্দেহজনক!”-২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

রাজ্যে বেআইনি ও অননুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল সরকার। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর এক ধাক্কায় রাজ্যজুড়ে ২৫২টি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূত আচরণের অভিযোগে প্রায় এক শতাধিক মাদ্রাসাকে ধরানো হয়েছে শোকজ নোটিস। কলকাতা সহ রাজ্যের ২২টি জেলায় বিস্তৃত তদন্ত চালিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
সরকারের এই পদক্ষেপের পর থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। সোমবার সকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সরাসরি বিস্ফোরক সব অভিযোগ তোলেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “হোটেল-রেস্তোরাঁ হোক বা মাদ্রাসা—অনুমতি ছাড়া যা চলছে, সবই বেআইনি। সরকার কড়া স্ক্রুটিনি করছে, সরকারি অনুমতি না মিললে এগুলো চলতে দেওয়া হবে না।”
মাদ্রাসাগুলির অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “মাদ্রাসায় সমস্ত কিছুই সন্দেহজনক। বিগত ২০ বছর ধরে ঘটে যাওয়া একাধিক জঙ্গি হামলায় কোনো না কোনো মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম জড়িয়েছে। এখনও শিক্ষকরা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন। এমনকি বাংলাদেশ থেকে আসা জঙ্গিরাও এই সব মাদ্রাসাতেই আস্তানা বা আশ্রয় নেয়।” পূর্ববর্তী রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, এই সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও কেউ এর কোনো সমাধান বের করতে পারেনি। বর্তমান সরকারই এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে।
এদিকে প্রশাসনিক স্তরে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর সূত্রে খবর, যে সমস্ত মাদ্রাসার পরিচালন ব্যবস্থা বা সরকারি অনুমোদন নিয়ে ঘাটতি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও বিধিসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু হয়েছে।
আইন মেনে পরিচালিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়ে আশ্বাস দিয়ে দিলীপ ঘোষ যোগ করেন, “যারা সরকার স্বীকৃত এবং সব নিয়মকানুন মেনে মাদ্রাসা চালাচ্ছেন, সেই সমস্ত বৈধ প্রতিষ্ঠান যথারীতি চলবে। কিন্তু যেখানে-সেখানে বেআইনিভাবে মাদ্রাসা খুলে এলাকায় উৎপাত করার স্বাধীনতা কাউকেই দেওয়া হবে না। আর সেই কারণেই এই কঠোর যাচাই অভিযান চালানো হচ্ছে।”