“গোখরো থেকে কিং কোবরা—সব বিষে এক ওষুধ! নতুন ‘নেক্সট জেনারেশন’ অ্যান্টিভেনমে চমক বিজ্ঞানীদের

গ্রামীণ ভারতে সাপের কামড় অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর সাপের কামড়ে এক লক্ষের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যার প্রায় অর্ধেকাংশই ঘটে ভারতে। তবে এই ভয়াবহ চিত্র বদলাতে চলেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের হাত ধরে খুব শীঘ্রই বাজারে আসছে ‘নেক্সট জেনারেশন অ্যান্টিভেনম’, যা কেউটে, গোখরো এবং বিশ্বের অন্যতম বিষধর সাপ কিং কোবরা বা শঙ্খচূড়ের কামড় থেকেও মানুষকে বাঁচাতে সক্ষম।

বর্তমানে প্রচলিত অ্যান্টিভেনমগুলি মূলত ঘোড়ার প্লাজমা থেকে তৈরি হয়। এই পদ্ধতিতে বহু মানুষের জীবন বাঁচলেও এর বড় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে সাপের বিষের ধরন বদলানোর কারণে সব জায়গায় এই অ্যান্টিভেনম সমানভাবে কার্যকরী হয় না। এছাড়া, বিষের চিকিৎসা সফল হলেও অনেক সময় শরীরে মারাত্মক অ্যালার্জি বা দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে যায়, যা রোগীকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।

এই সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানীরা ৫টি বিশেষ ধরনের রিকম্বিন্যান্ট অ্যান্টিবডি বা ন্যানোবডি (VHHs) দিয়ে তৈরি একটি নতুন অ্যান্টিভেনম ককটেল আবিষ্কার করেছেন। ভারতে পাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির কোবরা এবং কিং কোবরা সাপের বিষে থাকা প্রধান তিনটি উপাদান—আলফা-নিউরোটক্সিন, সাইটোটক্সিন এবং ফসফোলাইপেজ A2-এর প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে এটি। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিষ সংগ্রহ করে এই গবেষণা চালানো হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের ওপর এই নতুন ন্যানোবডি ককটেলের সফল পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রজাতির কোবরা এবং শঙ্খচূড়ের বিষের বিরুদ্ধে এটি সম্পূর্ণ কার্যকর এবং বিষক্রিয়ায় মৃত্যু রোধ করতে সক্ষম। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মানুষের শরীরে এই অ্যান্টিভেনমের ব্যবহার শুরু হওয়ার আগে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও একাধিক ধাপের গবেষণা প্রয়োজন।