বেকার স্বামী হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও দিতে হবে টাকা! হিমাচল হাইকোর্টের বড় রায়ে বিপাকে পুরুষরা

স্বামী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং কর্মক্ষম হওয়া সত্ত্বেও যদি তিনি কর্মহীন থাকেন, তবুও তাঁকে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ দিতেই হবে। সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এই স্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছে হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট। আদালতের এই সিদ্ধান্ত স্বামী ও স্ত্রীর আইনি লড়াইয়ে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার সারকাঘাটের বাসিন্দা এক মহিলা পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণের দাবিতে আবেদন করেছিলেন। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে স্বামী হাইকোর্টে আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। স্বামীর যুক্তি ছিল যে তাঁর মাসিক আয় মাত্র ৬,১০০ টাকা। তবে বিচারপতি অজয় মোহন গোয়েল এবং বিচারপতি যোগেশ জাসওয়ালের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, বিচারিক আদেশের বৈধতা কেবল নিম্ন আদালতের তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই বিচার্য। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পারিবারিক আদালতের নির্ধারিত স্ত্রীর জন্য প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা এবং সন্তানের জন্য ৩,৫০০ টাকার অঙ্ক বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা বেশি নয়।
অমর উজালা নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে এটি পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, কেবল কর্মহীনতার অজুহাত দেখিয়ে আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তির পক্ষে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা বাধ্যতামূলক।