তারাপীঠের অলৌকিক কাহিনি এবার বড়পর্দায়! কালীপুজোয় আসছে এসভিএফ-এর নতুন চমক ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’

কিছু গল্প কেবল শোনার নয়, গভীর আবেগে তা অনুভব করার মতো। বীরভূমের তারাপীঠের পবিত্র ও রহস্যময় ভূমির পটভূমিতে রচিত এই কাহিনি যুগ যুগ ধরে বাঙালির আবেগ ও ভক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। মায়ের প্রতি এক সন্তানের অসীম ভক্তি এবং প্রথা-যুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ার সেই চিরন্তন আধ্যাত্মিক যাত্রা এবার বড়পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চলেছে প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ (SVF)। তাদের আসন্ন বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র অফিসিয়াল টিজার সম্প্রতি অত্যন্ত পবিত্র তিথি কৌশিকী অমাবস্যার দিনে প্রকাশ্যে এসেছে। আর এই প্রথম ঝলক সামনে আসার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে বাংলার অন্যতম শ্রদ্ধেয় ও আইকনিক আধ্যাত্মিক সাধক বামাচরণের জীবনের নানা অজানা ও রোমাঞ্চকর দিক তুলে ধরা হবে। সিনেমার মূল আকর্ষণ অবশ্যই এর কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘বামা’। এই আইকনিক চরিত্রে অত্যন্ত নিখুঁত ও শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় কামব্যাক করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী। শুধু তাই নয়, অভিনেতা হিসেবে রূপদান ছাড়াও তিনি এই ছবির লেখক ও সৃজনশীল পরিচালক হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। টিজারের প্রতিটি ফ্রেমে তারাপীঠের সেই মিস্টিক পরিবেশ, কঠোর সাধনা এবং মা তারার প্রতি বামার অকৃত্রিম সমর্পণের এক অনন্য ছবি ফুটে উঠেছে।
ছবির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলিতেও রয়েছে বড় চমক। এই সিনেমায় মা তারার ঐশ্বরিক ভূমিকায় দর্শকদের মন জয় করতে আসছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পায়েল দে। পাশাপাশি, সর্বানন্দের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন বহুমুখী প্রতিভাধর অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়। পুরো প্রজেক্টটিকে আরও বেশি আবেগঘন ও প্রাণবন্ত করে তুলতে এর সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বিশিষ্ট সুরকার ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। টিজারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এমন এক মানবিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক, যেখানে ভক্তিই একমাত্র ভাষা এবং পরম সত্তার সন্ধানই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
নির্মাতাদের ঘোষণা অনুযায়ী, এই বছর একেবারে জমজমাট কালীপুজোয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’। আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত কাজ এবং তারাপীঠের আবহকে বজায় রেখে তৈরি এই সিনেমা দর্শকদের এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে নিয়ে যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে। তাই এই উৎসবের মরসুমে সমস্ত প্রথা ও যুক্তির বেড়াজাল ভেঙে বামা এবং মা তারার সেই অলৌকিক জগতে প্রবেশ করার জন্য তৈরি থাকুন, যেখানে ভক্তের কাছে তাঁর মায়ের চেয়ে বড় সত্য আর কিছুই হতে পারে না।