জেরা চলাকালীন মুখই খুলছেন না সুমিত! কাকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন অভিষেকের আপ্ত সহায়ক? বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস!

কলকাতা থেকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মেদিনীপুর আদালতে নিয়ে যাওয়া হল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে। সকালবেলা ভবানীভবন থেকে বের করে এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর পর সোজা মেদিনীপুরের উদ্দেশে রওনা দেয় অপরাধ দমন শাখা (CID)। বর্তমানে তাঁকে রাখা হয়েছে আদালতের লক আপে, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হবে। শালবনি জমি দুর্নীতি মামলার জটিল জট ছুটিয়ে আসল সত্যের নাগাল পেতে সিআইডি আদালতের কাছে সুমিতকে ১৪ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে চলেছে।
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস কোথায় এবং এই সমস্ত অর্থ ঠিক কোথায় পাচার করা হয়েছে, সেই সমস্ত অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সিআইডির গোয়েন্দারা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তদন্তকারীদের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত সুমিত রায় চরম অসহযোগিতা করছেন। তদন্তে এই ধরনের অনীহা দেখে ওয়াকিবহাল মহলে জোরদার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, সিআইডির এই কড়া তদন্তে অসহযোগিতা করে আসলে তিনি ঠিক কাকে আড়াল করার বা রক্ষা করার চেষ্টা করছেন?
মেদিনীপুর আদালত চত্বর জুড়ে বর্তমানে নিরাপত্তার নজিরবিহীন চাদর বিছানো হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে আদালত চত্বরে প্রবেশাধিকার কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের মূল লক্ষ্য হল, রিমান্ডে নিয়ে সুমিত রায়কে জেরা করে জমি দুর্নীতির এই সুদীর্ঘ ও প্রভাবশালী যোগসূত্রগুলো দ্রুত উন্মোচন করা। আগামী দিনে এই মামলার তদন্তে আরও বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।