এক ধাক্কায় ৫ গুণ বাড়ল স্বাস্থ্য বিমার কভারেজ! কীভাবে পাবেন এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা?

অপ্রত্যাশিত বড় কোনো চিকিৎসা খরচ যে কোনো মধ্যবিত্ত বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সমস্ত সঞ্চয় নিমেষে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে। এই ধরনের সংকটময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আর্থিক সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে তামিলনাড়ু সরকারের ‘মুখ্যমন্ত্রীর বিস্তৃত স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প’ বা CMCHIS। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলি তালিকাভুক্ত সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে থাকে। সম্প্রতি তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে বিধানসভায় এই প্রকল্পের আওতায় থাকা বার্ষিক বিমার কভারেজ ৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২৫ লক্ষ টাকা করার কথা জানানো হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্তটি পূর্বনির্ধারিত ছিল, তবে এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জেগেছে।
এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট সরকারি নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। CMCHIS-এর নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারী পরিবারের বার্ষিক আয় ১.২০ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। এছাড়া একটি যোগ্য পরিবারের আওতাভুক্ত হিসেবে আইনত বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীল বাবা-মা থাকতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ফ্যামিলি কার্ড বা রেশন কার্ডে পরিবারের সমস্ত সদস্যের নাম নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে পরিবারের আয় সংক্রান্ত শংসাপত্র এবং কার্ডের সমস্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের বৈধ আয়ের শংসাপত্র, মূল ফ্যামিলি কার্ড ও তার একটি ফটোকপি এবং পরিবারের সব সদস্যের পরিচয়পত্র। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথমে আয় শংসাপত্র সংগ্রহ করে বাকি নথিপত্রসহ স্থানীয় রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে যেতে হয়। ফ্যামিলি কার্ডে কোনো রকম ভুলত্রুটি থাকলে তা আগেই সংশোধন করে নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া জেলা কালেক্টর অফিসে অবস্থিত নির্দিষ্ট সেন্টারে গিয়ে খুব সহজেই এই কার্ডের জন্য আবেদন করা সম্ভব। আবেদন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এবং যোগ্যতা যাচাইয়ের পরেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য বিমা কার্ড।