“৫০ বছরের জরাজীর্ণ বাড়িতে বেআইনি হস্টেল!”-দিল্লির মেসবাড়ি ভেঙে পড়ার পিছনে কী কী অনিয়ম?

রাজধানীর বুকে ফের বেআইনি নির্মাণ ও প্রশাসনিক গাফিলতির বলি হতে হলো সাধারণ মানুষকে। দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি পাঁচতলা মেসবাড়ি (Hostel Daze)। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। তবে কেবল পুরোনো জরাজীর্ণ কাঠামোই নয়, এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর নিয়মভঙ্গের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ওই বাড়িটি আদতে আবাসিক হিসেবে তৈরি হলেও, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাহিদাকে পুঁজি করে সেটিকে পেয়িং গেস্ট (PG) বা হস্টেলে রূপান্তর করা হয়েছিল। বাড়ির মালিক হরিরাম বনসলের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে বেসমেন্টে অবৈধ খননকার্য চালানো এবং অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে একাধিক অতিরিক্ত তলা তোলার অভিযোগ উঠেছে। এমসিডি (MCD)-র প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় কেবল গ্রাউন্ড প্লাস এক তলা তৈরির অনুমতি থাকলেও ভবনটি ছিল গ্রাউন্ড প্লাস চার তলা। নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ না হতেই অগস্ট মাস থেকে সেখানে ছাত্রদের থাকতে দেওয়া হয়েছিল। এমনকী দুর্ঘটনার দিনও বেসমেন্টে জল জমে থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সাউথ ক্যাম্পাস থানায় বাড়ির মালিক হরিরাম বনসল ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন এবং মানুষের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ এই নির্মাণ দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুরসভা। অন্যদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত সোমবার সকালে ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে পিজি অ্যাকোমোডেশন, নার্সিংহোম, স্কুল ও হাসপাতালসহ সমস্ত পাবলিক বিল্ডিংয়ের প্রতি বছর বাধ্যতামূলক ‘স্ট্রাকচারাল অডিট’ বা নির্মাণ কাঠামো পরীক্ষা করার নীতি আনা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, নিয়ম ভাঙার এই রমরমা কারবার প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে কী করে দিনের পর দিন চলল?