গভীর রাতে জয়পুরহাট সীমান্তে তুলকালাম! ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বড় চাল ভেস্তে দিল বিজিবি ও স্থানীয়রা

গতকাল রোববার গভীর রাতে জয়পুরহাট জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এক তীব্র ও নাটকীয় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (বিজিবি ২০) আওতাধীন দাউদপুর সীমান্তে বিএসএফের একটি অবৈধ পুশ-ইন প্রচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত প্রায় ১০টার দিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, যা নিয়ে পুরো সীমান্ত জুড়ে এখন চরম চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের নিকটবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে নিচা গোবিন্দপুর এলাকায় বেশ কিছু নারী-পুরুষ বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সুকৌশলে ওই নারী-পুরুষদের দাউদপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) অপচেষ্টা চালায়। বিষয়টি স্থানীয় গ্রামবাসীর নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তারা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবিকে খবর দেন। এরপর বিজিবির সাহসী জওয়ান ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সম্মিলিত ও কঠোর প্রতিহত করার মুখে বিএসএফের সেই কুৎসিত পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যায়।
দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের সচেতন বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সম্মানিত সদস্য মইনুল ইসলাম প্রথম আলোকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানান যে, কয়েকজন অসহায় ও বিভ্রান্ত নারী-পুরুষকে রাতের অন্ধকারে দাউদপুর সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালিয়েছিল বিএসএফ। কিন্তু খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় গ্রামবাসী বুক চিতিয়ে বিজিবির পাশে এসে দাঁড়ান এবং যৌথভাবে সেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেন। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি, গ্রাম পুলিশ, আনসার সদস্য এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে, দাউদপুর বিজিবি বিওপি ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কমান্ডার নায়েক সুবেদার মাহাবুবুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, বিজিবির সময়োপযোগী ও কঠোর প্রচেষ্টার কারণে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী শেষ পর্যন্ত একজন মানুষকেও বাংলাদেশে পাঠাতে সফল হয়নি। স্থানীয় গ্রামবাসী যেভাবে পুলিশ ও বিজিবিকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সার্বিক সহযোগিতা করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সাধারণ মানুষের এই সম্মিলিত বাধার মুখেই ভারত থেকে বাংলাদেশের সীমানার দিকে ধেয়ে আসা ওই দলটির লোকজন আর এক ইঞ্চিও সামনে এগোতে পারেনি। বর্তমানে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিজিবির পক্ষ থেকে গোটা পরিস্থিতির ওপর অত্যন্ত কড়া নজর রাখা হচ্ছে।