“২-৩ বছরেই কি কোটিপতি হওয়া যায়?”-৫০০০ টাকার SIP করলে ৫ বছরে হাতে কত টাকা পাবেন?

আজকের দিনে বিনিয়োগের দুনিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় অপশনগুলির মধ্যে অন্যতম হলো এসআইপি বা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP)। অনেকেই দাবি করেন যে দুই থেকে তিন বছরেই এসআইপির মাধ্যমে মোটা টাকা রিটার্ন পাওয়া সম্ভব, তবে বাস্তবে বাজারের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করেই এই লাভ নির্ধারিত হয়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে এসআইপি করলে আগামী ৫ বছরে ঠিক কত টাকা রিটার্ন পেতে পারেন, তার একটি আনুমানিক হিসাব সামনে এসেছে।
লার্জ-ক্যাপ ফান্ডে ৫,০০০ টাকার এসআইপি সাধারণত লার্জ-ক্যাপ ফান্ডে ৫,০০০ টাকার এসআইপি থেকে ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বার্ষিক রিটার্ন পাওয়া যায়। যদিও এই হার কমবেশি হতে পারে, তবে ৫ বছরের গড় রিটার্ন এই সীমার মধ্যেই থাকে। হিসাব বলছে, ১০ শতাংশ হারে ৫,০০০ টাকার এসআইপি থেকে পাঁচ বছর পর মোট ৩,৮৫,৮৫৯ টাকা পাওয়া যেতে পারে। আর যদি রিটার্নের হার ১২ শতাংশ হয়, তবে সেই অঙ্ক দাঁড়াবে ৪,০৫,৫১৮ টাকায়। এই ফান্ডগুলিতে বাজারের ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে।
মিডক্যাপ ফান্ড থেকে সম্ভাব্য আয় মিড-ক্যাপ ফান্ডগুলি সাধারণত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন দিয়ে থাকে। যদি কোনো ফান্ড ৫ বছরে গড় ১৫ শতাংশ রিটার্ন দেয়, তবে ৫ বছর পর মোট জমানো টাকার পরিমাণ হতে পারে ৪,৩৬,৭১০ টাকা। যার মধ্যে কেবল সুদ বা প্রফিট বাবদই ১,৩৬,৭১০ টাকা মিলবে। তবে লার্জ-ক্যাপের তুলনায় এই ফান্ডগুলিতে ঝুঁকির মাত্রা কিছুটা বেশি।
স্মলক্যাপ ফান্ডে লাভের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি রিটার্নের আশা থাকে স্মলক্যাপ ফান্ডে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লাভের আশা করতে পারেন। কোনো স্মলক্যাপ ফান্ড যদি ২০ শতাংশ রিটার্ন দেয়, তবে ৫,০০০ টাকার ৫-বছরের এসআইপি থেকে ৪,৯৩,৫২০ টাকা হাতে আসতে পারে। আবার যদি রিটার্নের হার ২৫ শতাংশ হয়, তবে মোট পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫,৫৬,৮৩৩ টাকায়। তবে মনে রাখতে হবে, এই ক্যাটাগরিতে ঝুঁকির পরিমাণও সবচেয়ে বেশি।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লার্জ-ক্যাপ, মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ— তিন ধরনের ফান্ডেরই নিজস্ব সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। লার্জ-ক্যাপে ঝুঁকি কম হলেও রিটার্ন মডারেট হয়, অন্যদিকে স্মল-ক্যাপে লাভের সুযোগ যেমন বেশি, তেমনই ঝুঁকির মাত্রাও তুঙ্গে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাজারগত ঝুঁকির অধীন। যেকোনো জায়গায় বিনিয়োগের পূর্বে নিজ দায়িত্বে আর্থিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।)