দিল্লি-মুম্বইয়ের পর এবার ঝাড়খণ্ডে থাবা বসল সোয়াইন ফ্লুর! ৮ জনের শরীরে ভাইরাস মিলতেই রাজ্যজুড়ে জারি হাই অ্যালার্ট

দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের পর এবার প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও থাবা বসল এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সোয়াইন ফ্লুর। করোনা এবং অন্যান্য ঋতুভিত্তিক সংক্রমণের আবহ কাটার আগেই রাজ্যে অন্তত ৮ জন রোগীর শরীরে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলায় তড়িঘড়ি রাজ্যজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে ঝাড়খণ্ড স্বাস্থ্য দফতর। সমস্ত জেলার সিভিল সার্জন এবং মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (NHM)-এর অধিকর্তা শশী প্রকাশ ঝা জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হলেও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এটি একটি আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (RIMS)-এ সম্প্রতি সংগৃহীত ১১টি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হলে তার মধ্যে ৮টিতেই এইচ১এন১ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
দিল্লি, কর্নাটক, কেরল, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ঝাড়খণ্ডেও কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে সন্দেহভাজন ও আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য অন্তত ১০টি বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি রাখতে হবে। পাশাপাশি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পিপিই কিট, থ্রি-লেয়ার মাস্ক, জরুরি ওষুধ, অক্সিজেন এবং ভেন্টিলেটর মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওপিডিতে সর্দি-জ্বর বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং চালুর কথাও বলা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, বয়স্ক ব্যক্তি, ৫ বছরের কম বয়সি শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাই সামান্য জ্বরকেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ও উপযুক্ত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।