পাহাড়ে অসম্ভবকে সম্ভব করছে ভারতীয় রেল! ২০২৯-এই চালু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ঋষিকেশ-কর্ণপ্রয়াগ ট্রেন লাইন

উত্তরাখণ্ডের দুর্গম ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির বুকে এক রেকর্ড গড়তে চলেছে ভারতীয় রেল। বহু প্রতীক্ষিত ঋষিকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেল প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য আগামী ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড বা আরভিএনএল-এর শীর্ষ কর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চরম প্রতিকূল ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি এবং কঠিন পাহাড়ি চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই মেগা প্রজেক্টের কাজ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কৌশলগত রেলপথটি উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুন, তেহরি গাড়ওয়াল, পৌরি গাড়ওয়াল, রুদ্রপ্রয়াগ এবং চামোলি জেলার ওপর দিয়ে বিস্তৃত হবে। এই রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে চালু হলে ঋষিকেশের সঙ্গে দেবপ্রয়াগ, রুদ্রপ্রয়াগ এবং কর্ণপ্রয়াগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্রগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থা এক নতুন মাত্রা পাবে। বিশেষ করে চারধাম যাত্রায় যাতায়াতকারী লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর যাতায়াত যেমন সুগম হবে, তেমনই পাহাড়ি অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও এই রেল প্রকল্পটি এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় এবং চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো এর বিপুল পরিমাণ সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ। পুরো ১২৫ কিলোমিটার রেললাইনের প্রায় ১১২ কিলোমিটার অংশই সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে তৈরি করার সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূল লাইনের ১৬টি সুড়ঙ্গের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৪ কিলোমিটার। এর পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ১২টি এসকেপ বা আপৎকালীন টানেল তৈরি করা হয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৮ কিলোমিটার। রেল মন্ত্রক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মূল লাইনের প্রায় ৯৯ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ খননের কাজ ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি এসকেপ টানেলের ৯৪ কিলোমিটারেরও বেশি কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘ সুড়ঙ্গগুলির নির্মাণকাজ দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে শেষ করার জন্য বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে ৮টি অ্যাডিট বা অতিরিক্ত প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছিল, যার কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেলপথ চালু হলে পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসবে।