নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল সাড়ে পাঁচশো! চোখের পলকে নিখোঁজ দু’হাজারের কাছাকাছি

ভয়াবহ বন্যা ও প্রলয়ঙ্করী ভূমিধসের জেরে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল। গত ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে। পাশাপাশি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,৯২৪ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী তিব্বত অঞ্চলেও এই বিপর্যয়ে অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৫৮ জন। ভোট কোশী নদীর আকস্মিক ও সর্বগ্রাসী বন্যায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে এক চরম অমানিশা।
প্রবল জলস্রোত, পুরু কাদার স্তর এবং চরম প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে দিনরাত এক করে চলেছে নেপালি সেনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন লোমহর্ষক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জলের তলায় তলিয়ে যাওয়া ও ধসে পড়া ভবনের ছাদে আটকে থাকা অসহায় মানুষগুলোকে বাঁচাতে কতটা নিচ দিয়ে উড়ে চলেছে সেনার হেলিকপ্টার। এমনই এক বিপজ্জনক অভিযানে ছাদ থেকে হাত নেড়ে সাহায্য চাওয়া এক ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন জওয়ানরা।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানগুলির একটি চালানো হয় রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে। আচমকা ঢুকে পড়া বন্যার তোড়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন শত শত শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা। সেনার বিশেষ দল কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ ঠেলে সুড়ঙ্গের গভীরে প্রবেশ করে এবং প্রায় ৩৫০ জন মানুষকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনে। এখনও পর্যন্ত সেখানে আরও একশোর বেশি মানুষকে উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, ওই একই এলাকা থেকে অতিরিক্ত ৫৩৩ জন গ্রামবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক স্মৃতির অন্যতম মারাত্মক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় শুরু হয় গত ২৬ অগাস্ট, যখন ভোট কোশী নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পাকা সেতু এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প জলের তলায় তলিয়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের সমস্ত দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার হাজার হাজার কর্মীকে মাঠে নামানো হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কবলে পড়েছেন বহু ভারতীয় নাগরিকও। পবিত্র কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় যাওয়া অনেক ভারতীয় তীর্থযাত্রীও এই আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ভারতীয় ও নেপালি প্রশাসন যৌথভাবে সমন্বয় রেখে নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও নদীর ফুলেফেঁপে ওঠা জলস্তরের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ব্যাহত হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের স্পন্দন খুঁজতে বিন্দুমাত্র পিছপা হচ্ছেন না উদ্ধারকারীরা।