১.৯০ কোটির চোখ ধাঁধানো লাক্সারি! ভারতে ঝড় তুলতে এল রেঞ্জ রোভার স্পোর্টের স্পেশ্যাল এডিশন

লং ড্রাইভিং ও প্রিমিয়াম লাক্সারি এসইউভিপ্রেমীদের জন্য দুর্দান্ত সুখবর নিয়ে এল বিশ্বখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (JLR)। ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করা হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত রেঞ্জ রোভার স্পোর্টের এক অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এক্সক্লুসিভ লিমিটেড এডিশন, যার পোশাকি নাম রাখা হয়েছে ‘রেঞ্জ রোভার স্পোর্ট টুইেন্টি এডিশন’ (Range Rover Sport Twenty Edition)। ভারতীয় বাজারে এই দুর্দান্ত লাক্সারি এসইউভিটির এক্স-শোরুম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১.৯০ কোটি টাকা। এই গাড়িটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এটি কেবল সাধারণ কোনো এসইউভি নয়; এর আকর্ষণীয় বাহ্যিক লুকের পাশাপাশি এর ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে একটি অতীব শক্তিশালী ভি৮ (V8) ইঞ্জিন, যা চালককে দেবে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই ভারতে এই স্পেশ্যাল এডিশন গাড়িটির ডেলিভারি শুরু হয়ে যেতে পারে। যেহেতু এটি একটি লিমিটেড-প্রোডাকশন বা সীমিত সংস্করণের মডেল, তাই সংস্থা খুব বেছে বেছে হাতেগোনা কিছু ইউনিটই বিশ্ববাজারে ও ভারতে তৈরি করবে।
২০০৪ সালের বিখ্যাত ‘রেঞ্জ স্টর্মার কনসেপ্ট’ (Range Stormer Concept)-এর ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই নতুন এসইউভির ডিজাইনটি তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক আগে ডেট্রয়েট অটো শো-তে প্রথমবার এই কনসেপ্টটি প্রকাশ্যে এসেছিল, যা আজও অটোমোবাইল প্রেমীদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। নতুন টুইেন্টি এডিশনে রেঞ্জ রোভার স্পোর্ট অটোবায়োগ্রাফি এবং আরও শক্তিশালী এসভি (SV) মডেলের একাধিক প্রিমিয়াম ডিজাইন ও আধুনিক ফিচারগুলির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়। গ্রাহকদের আকর্ষণ করার জন্য এই গাড়িটি মোট তিনটি দুর্দান্ত এক্সটেরিয়র কালার অপশনে বাজারে উপলব্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টাইলিশ সান্তোরিনি ব্ল্যাক, অস্টুনি পার্ল হোয়াইট এবং একটি এক্সক্লুসিভ স্যাঙ্গুিনেলো অরেঞ্জ রঙ। এই বিশেষ কমলা রঙটি সরাসরি পুরনো রেঞ্জ স্টর্মার কনসেপ্ট এবং ২০০५ সালের ভেসুভিয়াস অরেঞ্জ শেড দ্বারা অনুপ্রাণিত। এছাড়াও ক্রেতারা চাইলে এর সঙ্গে ব্ল্যাক এক্সটেরিয়র প্যাক বেছে নিতে পারেন, যার ফলে গাড়ির রুফ এবং ওআরভিএম-এর মতো অংশগুলিতে একটি আকর্ষণীয় গ্লॉस-ব্ল্যাক ফিনিশ পাওয়া যায়। এসইউভিটিতে ২৪ ইঞ্চির সুবিশাল অ্যালয় হুইল দেওয়া হয়েছে, যা একে আরও রয়্যাল লুক দেয়।
গাড়ির কেবিন বা ভেতরের অন্দরমহলটিও কম আকর্ষক নয়। দরজা খুলতেই কেবিনে জ্বলজ্বল করে ওঠে ‘টুইেন্টি এডিশন’-এর ব্র্যান্ডিং লাইট। সেন্টার কনসোলে ফোর্জড কার্বন ভিনিয়ার ফিনিশ এবং পুরো কেবিন জুড়ে প্রিমিয়াম ব্ল্যাক থিম ব্যবহার করা হয়েছে। আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য এতে রয়েছে ইবনি উইন্ডসর লেদার সিট। পারফরম্যান্সের দিক থেকে বিচার করলে, এই এসইউভিতে রয়েছে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ৪.৪-লিটার টুইন-টার্বো ভি৮ পেট্রোল ইঞ্জিন, যা মাইল্ড-হাইব্রিড প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। এই দানবীয় ইঞ্জিনটি থেকে সর্বোচ্চ ৫৩৭ হর্সপায়ার শক্তি এবং ৭৫০ এনএম টর্ক উৎপন্ন হয়। সঙ্গে রয়েছে একটি স্মুথ ৮-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্স। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, বিশাল আকৃতির লাক্সারি এসইউভি হওয়া সত্ত্বেও এটি মাত্র ৪.৫ সেকেন্ডের মধ্যে ০ থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ তুলতে সক্ষম, যা যেকোনো স্পোর্টস কারকে অনায়াসে কড়া টক্কর দিতে পারে।