মধ্য এশিয়ায় ভারতের বড় কূটনীতি! ৪ দিনের ঝটিকা সফরে উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানের উদ্দেশে রওনা মোদীর

মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার নয়াদিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে পৌঁছান তিনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভের বিশেষ আমন্ত্রণে এই দুদিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফর শুরুর প্রাক্কালে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি ভারতের ‘বিকশিত ভারত’ এবং উজবেকিস্তানের ‘ইয়াঙ্গি উজবেকিস্তান’ ধারণার যৌথ পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও মতবিনিময় করবেন দুই রাষ্ট্রনেতা। তাসখন্দ সফরে প্রধানমন্ত্রী শাস্ত্রী মেমোরিয়াল এবং তাসখন্দ স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের মহাত্মা গান্ধী সেন্টার পরিদর্শন করবেন, যা দুই দেশের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। উল্লেখ্য, এটি উজবেকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর চতুর্থ সফর। এর আগে তিনি ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০২২ সালে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে দেশটিতে গিয়েছিলেন।

তাসখন্দ পর্ব শেষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী পাড়ি দেবেন কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারোভের আমন্ত্রণে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। চলতি বছর এই প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থাটি তাদের প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কানেক্টিভিটি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং চরমপন্থার মতো মারাত্মক বিপদগুলি ভারত ও তার প্রতিবেশি অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এক বিরাট হুমকি। এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়াও বিশকেক সফরে প্রধানমন্ত্রী ষষ্ঠ ‘ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস’-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, যা মধ্য এশিয়ার প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য উদযাপন। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসসিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ। এই সংস্থায় বর্তমানে দশটি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে, যাদের সম্মিলিত ভূখণ্ড প্রায় ৩৬ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ৩.৪ বিলিয়নেরও বেশি। বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ১৫ শতাংশেরও বেশি অংশ এই সংস্থার অন্তর্ভুক্ত। ২০১৭ সালে ভারত পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার পর থেকে এই মঞ্চে অত্যন্ত সক্রিয় এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর এই চার দিনের ঝটিকা সফর মধ্য এশিয়ায় ভারতের ঐতিহাসিক সভ্যতার সংযোগ ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন ও মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।