“হু হু করে বাড়ছে CNG গ্যাসের দাম!”-অটো-ক্যাব ভাড়া কি এবার বাড়ছে?

দিল্লিতে ফের বাড়ল কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজি-এর দাম। ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেড বা আইজিএল প্রতি কেজি সিএনজিতে ৩.৮৯ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই নতুন দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পরেই গোটা দেশ জুড়ে এক প্রকার আশঙ্কার মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে। রাজধানী দিল্লির পর এবার দেশের অন্যান্য রাজ্যেও সিএনজির দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব থেকে বাংলাও যে খুব একটা সুরক্ষিত থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য। আর সিএনজির দাম বাড়ার সরাসরি অর্থ হলো সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম অর্থাৎ অটো এবং ক্যাবের ভাড়া বৃদ্ধির চরম আশঙ্কা।
শনিবার সকাল ৬টা থেকেই এই বর্ধিত দাম কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দিল্লিতে এখন এক কেজি সিএনজির দাম ৮৩.০৯ টাকা থেকে বেড়ে সোজা ৮৬.৯৮ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
কেন হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধি? ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেডের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিবৃতিতে দাম বাড়ার কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। যার ফলে গত জুলাই মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি-এর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। প্রধানত হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যা তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিলেও এতদিন দিল্লির গ্রাহকদের আমদানিকৃত স্পট এলএনজির দামের ওঠানামা থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বৃদ্ধি করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না বলেই জানিয়েছে সংস্থা।
আইজিএলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরোপের টিটিএফ গ্যাসের দাম ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ১১.৩৬ মার্কিন ডলার ছিল, যা ২৭ আগস্ট লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩.৩৫ ডলারে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম প্রায় ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে এশিয়ার জেকেএম এলএনজি-এর দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ১০.৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ২৩.৪১ ডলারে পৌঁছেছে, যার বৃদ্ধির হার প্রায় ১১৩ শতাংশ। এর বিপরীতে গত কয়েক মাসে দিল্লিতে সিএনজির দাম মাত্র ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। হরমুজ প্রণালীতে কার্গো যাতায়াতে বাধা এবং ইউরোপে শীতের মরসুমের আগে গ্যাস মজুত করার চাহিদা বাড়ার ফলেই এই বিশ্বজোড়া মূল্যবৃদ্ধি।
ভাড়া বাড়ার আশঙ্কা কতটা? সিএনজি মূলত অটো এবং একাধিক বাণিজ্যিক গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই লাগাতার দাম বৃদ্ধির জেরে স্বাভাবিকভাবেই দিল্লির পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও পড়তে শুরু করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীদের পকেটে সরাসরি টান ধরাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।