ষড়যন্ত্র করে মন্ত্রিসভা থেকে সরাতে চাইছে নিজের দলেরই একাংশ! চরম হুশিয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জুয়েল ওরাঁওয়ের

রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা জুয়েল ওরাঁও সরাসরি নিজের দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, দলেরই কিছু সহকর্মী তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি জনসমক্ষে ক্ষুণ্ণ করতে এবং তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে জোরদার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, এই চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হাত কেটে ফেলার মতো পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি তাঁর রয়েছে।
ওড়িশার শিল্পনগরী রাউরকেল্লায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে সম্প্রতি রাকেশ পাসওয়ান নামক এক ব্যক্তির গ্রেফতারি ঘিরে এই সমস্ত বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ওই ধৃত ব্যক্তি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যদিও রাকেশ পাসওয়ান নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অপরাধমূলক অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন, তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই সুযোগে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে, যা দলের অন্দরেও অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মুখ থেকে এ ধরনের তীব্র হুঁশিয়ারি এবং দলীয় সতীর্থদের বিরুদ্ধে সরাসরি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলার ঘটনা অত্যন্ত বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের ফলে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সমন্বয় নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ নেতার নাম জড়ানো এবং পরবর্তীতে মন্ত্রীর এই আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে ওড়িশার রাজনীতিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।