“ভোটের আগে এ কোন জালিয়াতি?” গোপন নথি ফাঁসের ঘটনায় বিরোধীদের তুমুল তোপের মুখে শাসক শিবির

মহারাষ্ট্রের প্রবীণ ও ব্যস্ত শহর নবি মুম্বইয়ের রাজনীতিতে এক বিশাল রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ তীব্র সংশোধন বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মোট ৩,৪০৪টি অতি গোপনীয় ফর্ম বেআইনিভাবে ফটোকপি বা জেরক্স করার সময় হাতেনাতে এক বিজেপি নেতাকে ধরে ফেললেন বিরোধী দলের এক স্থানীয় নেতা। এই গুরুতর ঘটনায় নির্বাচন কমিশন এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অবিলম্বে পাঁচজন বুথ লেভেল অফিসারকে (বিএলও) বড়সড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপে সাসপেন্ড করা হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, উদ্ধার হওয়া এই সমস্ত ফর্মগুলি ছিল সংবেদনশীল পনভেল বিধানসভা এলাকার ভোটারদের। যার মধ্যে প্রতিটি পাতায় ছিল সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নিজস্ব ছবি, ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য এবং বিএলও-দের আসল সরকারি ও দাপ্তরিক স্বাক্ষর।
পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত হয় যখন শিবসেনা (ইউবিটি)-র এক স্থানীয় নেতা খাড়ঘরের একটি স্থানীয় জেরক্স ও প্রিন্টিং দোকানের ভেতরে হানা দেন। সেখানে তিনি ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা (বিজেওয়াইএম)-এর এক সক্রিয় পদাধিকারী ও স্থানীয় নেতা সুরজ পাটিলকে পনভেল বিধানসভার হাজার হাজার এসআইআর ফর্মের বান্ডিলসহ সরাসরি দেখতে পান। ঘটনার খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে দোকানের বাইরে দুই রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও হাতাহাতি বেধে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত বিতর্কিত নথি বাজেট করেন। রাজস্ব আধিকারিকরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে নিশ্চিত করেন যে নথিগুলি কোনো ফেক পেপার ছিল না, বরং সম্পূর্ণ আসল এবং বৈধ ছিল। এরপর নায়েব তহশিলদারের দাপ্তরিক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত সুরজ পাটিলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং কঠোর জন প্রতিনিধিত্ব আইনের একাধিক সুনির্দিষ্ট ধারায় আনুষ্ঠানিক এফআইআর রুজু করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া মেনে অভিযুক্তকে আটক করার পর নির্ধারিত নোটিশ দিয়ে সাময়িকভাবে ছেড়ে দেওয়া হলেও রাজনৈতিক মহলে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে রায়গড়ের জেলা কালেক্টর অত্যন্ত কড়া সুরে জানিয়েছেন যে, সরকারি তদন্তে নথিগুলির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে এবং এই চরম গাফিলতির দায় সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও-দের ওপর বর্তায়। সেই কারণে প্রশাসনিক স্তরে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে পনভেল এলাকার মোট পাঁচজন বিএলও-কে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। এদিকে খাড়ঘরের ওই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, ভোটারদের দ্বারা পূরণ করা এতগুলি গোপন নথি কীভাবে একজন রাজনৈতিক নেতার হাত ধরে একটি বেসরকারি ফটোকপি সেন্টারে পৌঁছাল। এই ঘটনায় মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের মুখ্য প্রেসভক্তার অতুল লোধে পাটিলসহ অন্যান্য বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য একটি সুসংগঠিত চক্রান্ত চলছে। যদিও পনভেল পুরনিগমের মেয়র তথা বিজেপি নেতা নীতিন পাটিল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি দলের কোনো সম্পর্ক নেই, তবে এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি যে রাজ্যজুড়ে ভোটের সমীকরণকে দারুণভাবে প্রভাবিত করবে, তা বলাই বাহুল্য।