মঙ্গলের বুকে রহস্যময় ‘জেলিফিশ’! নাসা-র রোভারের ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র (NASA) কিউরিওসিটি রোভারের পাঠানো একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ফের শোরগোল শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। লালগ্রহের রুক্ষ ও ধুলোয় ঢাকা পাহাড়ি ভূখণ্ডের মাঝে মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে ভেসে বেড়াতে দেখা গিয়েছে একটি রহস্যময় বস্তুকে। অদ্ভুত দেখতে এই জিনিসটির আকার ও গঠন নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে পৌঁছেছে, যার সঙ্গে অনেকেই সামঞ্জস্য খুঁজে পেয়েছেন জেলিফিশের।
২০২৩ সালের ২০ অগাস্ট কিউরিওসিটি রোভারের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল এই দৃশ্য। পরবর্তীতে নাসা কর্তৃক প্রকাশিত ছবিগুলি খুঁটিয়ে দেখতে গিয়েই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ওই ভাসমান বস্তুটি লক্ষ্য করেন। ছবি জুম করে দেখা যায়, বস্তুটির বাঁ দিকে মাথার মতো কোনো অংশ রয়েছে, তার পুরো শরীরটি কুচকুচে কালো এবং সরু লম্বা পায়ের মতো কিছু অংশ শূন্যে ঝুলে রয়েছে। নাসার আপলোড করা ক্রমানুসারের ছবিগুলোতে দেখা যায়, ওই রহস্যজনক ছবি পোস্ট করার ঠিক মিনিটখানেক আগে একই স্থানের অন্য একটি ছবিতে কিন্তু ওই অদ্ভুত বস্তুটির কোনো অস্তিত্ব ছিল না। আবার এর দু’ঘণ্টা পর তোলা অন্য জায়গার ছবিতেও তার দেখা মেলে নি।
এই ঘটনায় নেটদুনিয়ায় নানারকম জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই একে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ‘ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস’-এ দেখানো ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করছেন। আবার কারও মতে এটি নাসার কোনো নিজস্ব যন্ত্র বা মার্স হেলিকপ্টার হতে পারে। যদিও ২০২১ সালে ওড়া মার্স হেলিকপ্টারটি কিউরিওসিটি থেকে প্রায় ২০০০ মাইল দূরে অবস্থান করায় সেই তত্ত্ব খারিজ হয়ে গিয়েছে। নাসা কিংবা হোয়াইট হাউসের তরফে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা হয়নি যে এটি কোনো এলিয়েন বা রহস্যময় বস্তু কি না, কিংবা সেটি আদতেই বাতাসে উড়ছিল কি না।
উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে মঙ্গলগ্রহের গেল গহ্বরে একটানা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কিউরিওসিটি রোভার। অতীতে সেখানে অণুজীব বা প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা নানা ইঙ্গিত পেলেও বর্তমান সময়ে লালগ্রহে কোনো জীবন্ত প্রাণের অস্তিত্ব নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়েছে নাসা। তা সত্ত্বেও রোভারের লেন্সের এহেন আকস্মিক ও অদ্ভুত সব ফ্রেম লালগ্রহের রহস্যপ্রেমীদের উৎসাহকে প্রতিনিয়ত উসকে দিচ্ছে।