সকালে উঠেই হাত অবশ হয়ে যায়? অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো কোনো মারাত্মক রোগ!

সকালের ঘুম ভাঙার পর হাত ঝিনঝিন করা, অসাড় হয়ে যাওয়া কিংবা কিছুক্ষণ হাত নাড়াতে না পারার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে হাতের সঙ্গে হালকা ব্যথা বা দুর্বলতাও অনুভূত হয়। বেশিরভাগ সময়ে ঘুমের ভুল ভঙ্গি কিংবা দীর্ঘক্ষণ হাতের ওপর চাপ পড়ে থাকার কারণে এমনটা ঘটে থাকে এবং কিছুক্ষণ হাত নাড়াচাড়া করলেই অস্বস্তি কেটে যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর একই সমস্যা দেখা দিলে কিংবা অসাড়তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে তা একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।
ঘুমের সময় অনেকেই অজান্তে হাতের ওপর মাথা রেখে ঘুমান কিংবা শরীরের নিচে হাত চাপা পড়ে থাকে। এর ফলে হাতের স্নায়ু ও রক্তনালিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং সাময়িকভাবে হাতের অনুভূতি কমে যায়। এছাড়া কবজি দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো থাকলেও এই সমস্যা হতে পারে। তবে বারবার হাত অবশ হওয়ার পেছনে ‘কার্পাল টানেল সিনড্রোম’-এর মতো রোগও দায়ী থাকতে পারে। কবজির একটি সরু পথের মধ্য দিয়ে যাওয়া মিডিয়ান নার্ভের ওপর চাপ পড়লে রাতে বা ভোরে হাত ও আঙুলে তীব্র ঝিনঝিনি, অবশ ভাব বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। এমনকি জিনিসপত্র ধরতে গিয়ে হাতের শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতিও এর লক্ষণ হতে পারে।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আতঙ্কিত না হয়ে হাত ও কবজি ধীরে ধীরে নড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। আঙুলগুলো আস্তে করে মুঠ করে আবার খোলা এবং কবজি হালকা ঘোরানো যেতে পারে। তবে অবশ হাতে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মালিশ করা বা জোর করে ব্যায়াম করা ক্ষতিকর হতে পারে।
যদি সমস্যাটি মাঝেমধ্যে হয়, তবে চিন্তার বিশেষ কারণ নেই। কিন্তু প্রায় প্রতিদিন এমন হওয়া, অসাড়তা দীর্ঘক্ষণ থাকা, কবজিতে নিয়মিত ব্যথা বা হাতের শক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে দিনের বেলাতেও হাত অবশ থাকা, বারবার হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া কিংবা ঘাড় থেকে হাতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ার মতো লক্ষণ থাকলে অবিলম্বে কারণ নির্ণয় করা জরুরি। এছাড়া হাত অবশ হওয়ার পাশাপাশি যদি শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে যায়, মুখ বেঁকে যায়, কথা জড়িয়ে যায় বা তীব্র মাথা ঘোরে, তবে তা গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।