কার্গিলের বরফাবৃত আকাশে ভারতীয় বায়ুসেনার রক্তক্ষয়ী লড়াই! ওটিটিতে আসছে রোমহর্ষক ‘অপারেশন সফেদ সাগর’

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সেই রোমহর্ষক ও লোমহর্ষক দিনগুলি এবার ওটিটির পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) বীরত্ব, দুঃসাহসিক অভিযান এবং অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক কাহিনি নিয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স নিয়ে এসেছে ৬ পর্বের বিশেষ থ্রিলার সিরিজ ‘অপারেশন সফেদ সাগর’। হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকায় চলা সেই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে শত্রুঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে কীভাবে জয় ছিনিয়ে এনেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা, তারই রোমাঞ্চকর চিত্রনাট্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই সিরিজে।

এই সিরিজটি নিয়ে News18-এর সঙ্গে এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে গ্রুপ ক্যাপ্টেন তরুণ সিংঘ (Tarun Singha) তাঁর জীবনের বহু পুরোনো ও মর্মান্তিক স্মৃতির রোমন্থন করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘সফেদ সাগরের এই পুরো কাহিনি এক নিঃশ্বাসে বলে শেষ করা অসম্ভব। এটি ঠিক যেন সিনেমার মতো টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। স্কোয়াড্রন লিডার অজয় আহুজার নির্মম মৃত্যু আমার কাছে কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না, ওটা ছিল আমার একেবারে ব্যক্তিগত ক্ষতি। কারণ, আমরা একসঙ্গে এনডিএ-তে ট্রেনিং নিয়েছিলাম এবং একসঙ্গে ফাইটার পাইলটের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছি। আমরা ফাইটার পাইলটরা সাধারণত কাঁদি না, কিন্তু ওঁর মৃত্যু আমার চোখ ভিজিয়ে দিয়েছিল। অজয় আহুজা আমাদের সবার কাছেই এক জীবন্ত আইকন।’’ তিনি আরও জানান, মরহুম অজয় আহুজাকে বন্দি অবস্থায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করেছিল পাক বাহিনী। মিগ-২১ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাকিস্তান প্রথমে দুই পাইলটকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করলেও পরে নৃশংসভাবে অজয়কে হত্যা করে তাঁর মরদেহ ভারতীয় বাহিনীর হাতে তুলে দেয়, যার শরীরে একাধিক আঘাতের ও নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল।

কার্গিল যুদ্ধের প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছিল মূলত ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন পাকিস্তানের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী ঐতিহাসিক লাহোর বাসযাত্রা করেছিলেন। কিন্তু পাক সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মুশারফ সেই শান্তি উদ্যোগকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দিয়ে কাশ্মীর দখলের গোপন ছক কষেন, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন বদর’। মুশারফের চক্রান্তে নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে পাক ফৌজ। মুশকো উপত্যকা, দ্রাস, কাকসার ও বাটালিকের মতো দুর্গম পাহাড়ের চূড়া দখল করে তারা শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়কে লাগাতার গোলাবর্ষণ শুরু করে, যা ছিল সেসময়ে লাদাখ ও সিয়াচেন হিমবাহের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র লাইফলাইন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎকালীন বাজপেয়ী সরকার ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে ‘অপারেশন সফেদ সাগর’। ভারতীয় বিমানবাহিনী আকাশে ওড়ার পরই পাকিস্তানের স্টিঙ্গার ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক যুদ্ধবিমান। ১৭ নম্বর স্কোয়াড্রন বা ‘গোল্ডেন অ্যারোজ’-এর মিগ-২১ জেট দিয়ে শত্রুর বাঙ্কার ধ্বংসের সেই রুদ্ধশ্বাস অভিযান আজও ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশপথে এই অদম্য পরাক্রম ও নিখুঁত বোমাবর্ষণের মুখে টিকে থাকতে না পেরে পিছু হটতে বাধ্য হয় পাক ফৌজ। ১২ জুলাই হামলা বন্ধ হলেও ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ এলাকা পুনর্দখল করে কার্গিল যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের চিরতরে সমাপ্তি ঘটেছিল।