পুলিশকে মারধর থেকে মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানি! বিলবোর্ডকাণ্ডে জড়াGetName মামলায় ফাঁসলেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন সংঘর্ষ ও হাঙ্গামা হয়েছিল, তার জেরে এবার আইনি জালে জড়িয়ে পড়েছেন খোদ অভিষেক সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগ এবং একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হওয়ার ফলে আইনিভাবে বড়সড় বিপদের মুখে পড়তে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার বিকেলে, যখন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের কার্যালয়ের ওপর থাকা একটি বিতর্কিত বিলবোর্ড সরাতে যান। অভিযোগ ওঠে, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের তুমুল ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি বাধে। এমনকি অফিসে কর্মরত নিরাপত্তারক্ষী ও দলীয় কর্মীদের বাধায় সিঁড়িতে পুলিশকর্মীদের পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুলিশকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা এবং মহিলা পুলিশকর্মীকে লাঞ্ছিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে অবশেষে বিলবোর্ডটি অপসারণ করা হলেও, কিছুক্ষণ বাদেই সেখানে ফের নতুন ব্যানার টাঙানো হয়।

এই ঘটনার জেরে পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপকুমার বসুর অভিযোগের ভিত্তিতে মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। এই মামলাগুলিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, হুমায়ুন কবীর এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম রয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন কঠোর ও জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা, অনুমতি ছাড়া অবৈধ জনসমাবেশের জন্য ছ’মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। এছাড়া পুলিশ ও পুরকর্মীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং মহিলা পুলিশকর্মীকে লাঞ্ছনা করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোরতম ধারায় তিন থেকে সাত বছর পর্যন্ত জেলের সংস্থান রয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের ভয় দেখানোর অভিযোগে আরও দু’বছরের জেলের সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, এই বিলবোর্ড বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপ নিতে চলেছে।