‘মুখ্যমন্ত্রী সাহায্য করুন…’ নেপালের প্রাকৃতিক তাণ্ডবে নিখোঁজ শিক্ষিকা, কান্নায় ভেঙে পড়েছে ফলতার পরিবার

নেপালে ঘুরতে গিয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন বাংলার এক স্কুলশিক্ষিকা। নিখোঁজ ওই মহিলার নাম মিতালী মণ্ডল (৪৭)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা এলাকার শিবপুর হাসির নগরের বাসিন্দা পেশায় স্কুলশিক্ষিকা। গত ২১ আগস্ট একটি বেসরকারি ট্যুর এজেন্সির মাধ্যমে আনন্দময় নেপাল ভ্রমণের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ ভ্রমণই এখন পরিবারটির কাছে গভীর ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য পর্যটকদের সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোচ্ছিলেন মিতালী। নেপালে পৌঁছানোর পর প্রথম কয়েক দিন সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন তিনি, শেয়ার করতেন পাহাড়ি দেশের নানা সুন্দর অভিজ্ঞতার কথা। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় হঠাৎই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর সামনে আসে। হিমবাহ ধস, হড়পা বান এবং ভয়াবহ ভূমিধসের জেরে ওই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এর পর থেকেই মিতালীর মোবাইলে বারবার ফোন করা হলেও আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দিন যত গড়াচ্ছে, ততই পরিবারে বাড়ছে অজানা আশঙ্কার কালো মেঘ। ঘটনার পর থেকে ফলতার বাড়িতে চলছে শুধু অপেক্ষার প্রহর। কখন ফোন বেজে উঠবে, কখন ওপার থেকে মিতালীর গলা শোনা যাবে—এই আশাতেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁর বৃদ্ধ মা ও পরিজনেরা। পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার মিতালীর নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এই বিপর্যয় ঘটে যাওয়ায় তিনি ঠিক কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে আটকে রয়েছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
মিতালীর দিদি মনিকা মণ্ডল অত্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “সবকিছু ঠিকই ছিল। আমরা পরিবারের সবাই মিলে হাওড়া স্টেশনে তাঁকে হাসিমুখে বিদ জানিয়েছিলাম। বিপর্যয়ের খবর আসার ঠিক আগের দিন পর্যন্তও তাঁর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কিন্তু এখন সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আমরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে মিতালীর বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কের আপ্তসহায়ক তথা বিজেপি নেতা গৌতম বাগ মিতালীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার সম্পূর্ণ আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। আমরা রাজ্য সরকারের কাছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি, অবিলম্বে প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ করে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”