আড়াই বছর পর ন্যায়বিচার! পুরুলিয়ায় স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন মামলায় অভিযুক্তকে কারাদণ্ড দিল বিশেষ আদালত

স্কুল চত্বরের গাছ থেকে তেঁতুল পেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার মতো ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্তকে কঠোর সাজা শোনাল আদালত। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে চলা আইনি লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার জেলা ও দায়রা আদালত ২-এর স্পেশাল কোর্টের বিচারক রানা দাম এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিচারক অভিযুক্ত যুবককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত আরও ছ’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ৬ মার্চ। ওই দিন সকালে চতুর্থ শ্রেণির ৯ বছরের ওই ছাত্রী নির্দিষ্ট সময়েই স্কুলে গিয়েছিল। সেই সময় স্কুল চত্বরে থাকা একটি গাছ থেকে তেঁতুল পেড়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নাবালিকাকে স্কুলের পেছনের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় অভিযুক্ত মুন্না আনসারি। অভিযোগ, সেখানে নিয়ে গিয়ে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন গোপন অঙ্গ স্পর্শ করা হয় এবং তাকে মাটিতে ফেলে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা চালায় ওই লম্পট। আকস্মিক এই আক্রমণে ভয় পেয়ে শিশুটি উচ্চস্বরে চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত সেখান থেকে চম্পট দেয়। এরপর ভয়ে ও কান্নায় ভেঙে পড়ে বাড়ি ফিরে গিয়ে গোটা বিষয়টি নিজের বাবাকে খুলে বলে নির্যাতিতা।

মেয়ের মুখে এই নৃশংস ঘটনার কথা শোনার পরেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ওই দিনই বাঘমুন্ডি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকার বাবা। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয় এবং ঘটনার পরের দিন ভোরেই অভিযুক্ত মুন্না আনসারিকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তকারী অফিসার গৌতম কুমার মাহাতো অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও দ্রুততার সঙ্গে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর জোরালো সওয়াল এবং দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এই জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক রায়দান সম্ভব হয়েছে।

মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পকসো) রবিশঙ্কর ত্রিপাঠী সংবাদমাধ্যমকে জানান, পকসো আইনের ৮ ধারার অধীনে অভিযুক্ত মুন্না আনসারিকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছ’মাস জেলে কাটাতে হবে। পুরুলিয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, পকসো আইনে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল, যার ফলে অপরাধীকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো গেছে।

রায়ের পর প্রকাশ্যেই আদালতের বিচার ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা। তিনি জানান, আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে অপরাধী উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে। এই ধরনের বিকৃত মানসিকতার নোংরা কাজ করার আগে এহেন অপরাধীরা এবার হাজার বার ভাববে। সাধারণ মানুষের মতে, এই ধরনের কড়া সাজা সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমাতে এবং শিশুদের সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি একটি বার্তা দেয়।