কমবে পেনশন কাটার মেয়াদ? অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে বড় দাবি সরকারি কর্মচারীদের!

কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনভোগী এবং বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি, অবসরের সময় এককালীন অর্থ পাওয়ার জন্য যে রূপান্তর বা কমিউটেড পেনশন কাটা হয়, তার পুনর্বহালের ১৫ বছরের বর্তমান নিয়মটি সংশোধন করে কমানো হোক। বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী কর্মচারী সংগঠন অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে সুপারিশ করেছে যে, এই সময়সীমা ১৫ বছরের পরিবর্তে কমিয়ে ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে নামিয়ে আনা উচিত। তাদের মূল যুক্তি হলো, বর্তমান নিয়মগুলো প্রায় চার দশক পুরোনো আর্থিক ও অ্যাকচুয়ারিয়াল অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা আজকের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।
পেনশন রূপান্তর বা কমিউটেশন বলতে বোঝায়, যখন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা অবসরের ঠিক প্রাক্কালে তাদের মূল পেনशনের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন নগদ অর্থ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে তাঁদের নিয়মিত পেনশন থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ কেটে নেওয়া হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই কাটা অংশটি টানা ১৫ বছর পর আবার পুনরায় সম্পূর্ণ চালু বা পুনরুদ্ধার করা হয়। তবে, এই দীর্ঘ সময়সীমা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন ইউনিয়ন জানিয়েছে যে, বিগত চার দশকে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি, মানুষের গড় আয়ু এবং সুদের হারের ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন এসেছে।
যৌথ পরামর্শদাতা সংস্থার জাতীয় পরিষদ (এনসি-জেসিএম), সর্বভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মচারী ফেডারেশন (এআইডিইএফ) এবং জাতীয় ডাক সংস্থা ফেডারেশন (এফএনপিও) যৌথভাবে এই সময়সীমা কমিয়ে ১১ বছর করার জোরালো দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন ১২ বছরের প্রস্তাব পেশ করেছে। পাশাপাশি, অল ইন্ডিয়া নিউ পেনশন স্কিম এমপ্লয়িজ ফেডারেশন এটি কমিয়ে মাত্র ১০ বছর করার দাবি জানিয়েছে। ভারত পেনশনিয়ার্স সমাজ এবং অল পেনশনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনও ১১ বছরের সুপারিশই সমর্থন করেছে।
সময়সীমা কমানোর সপক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়ে এনসি-জেসিএম জানিয়েছে, ১৫ বছরের এই বিধিটি প্রায় ৪০ বছর আগের বীমা-সংক্রান্ত মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সুদের হার, গড় আয়ু এবং ঝুঁকির কারণগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আসায় নতুন মূল্যায়নের সময় এসে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ৬১ বছর বয়সি পেনশনভোগীর ক্ষেত্রে হিসাব করে দেখা গেছে যে, ১০ বছরের মধ্যে সরকার কর্তিত অর্থের পুরো পরিমাণ তুলে নেয়। এরপরও যদি অতিরিক্ত ৪ বছর ধরে টাকা কাটা চলতে থাকে, তবে তা পেনশনভোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ভারত পেনশনিয়ার্স সমাজও তাদের তথ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, বর্তমান নিয়মের কারণে একজন সাধারণ পেনশনভোগীকে অতিরিক্ত প্রায় ৬.৭২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেশি হারাতে হতে পারে।
এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে সংগঠনগুলো অষ্টম বেতন কমিশনকে কেন্দ্রীয় বেসামরিক পরিষেবা (পেনশন রূপান্তর) বিধিমালা, ১৯৮১-এর বিধি ১০এ পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অষ্টম বেতন কমিশন এই যৌক্তিক দাবিগুলোকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।