বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ল রবি তেজার ‘ইরুমাডি’! তেলেগু সিনেনার ১০৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে চুরমার!

রবি তেজার নতুন ছবি ‘ইরুমাডি’ বর্তমান সময়ে তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি অভাবনীয় এবং অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। বিশিষ্ট ট্রেড অ্যানালিস্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রবিবার তেলেগু রাজ্যগুলির প্রায় প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহের সমস্ত শো ছিল সম্পূর্ণ হাউসফুল। তেলুগু সিনেমার ১০৫ বছরের বর্ণাঢ্য ইতিহাসে এই ধরনের নজিরবিহীন ঘটনা এই প্রথম ঘটল বলে দাবি করা হচ্ছে। এই রেকর্ড ছবিটির রাজকীয় সাফল্যে এক অনন্য মাইলফলক যোগ করেছে।
‘ইরুমাডি’ মূলত দর্শকদের জোরালো মাউথ প্রচারের সুবাদেই বক্স অফিসে দুর্দান্ত গতি ধরে রেখেছে। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ছবির দর্শক সংখ্যা কমার পরিবর্তে দিন দিন বেড়েই চলেছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই ছবিটি দেখেছেন, তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যদেরও প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখার জন্য প্রবলভাবে উৎসাহিত করছেন। এই ইতিবাচক প্রচারই সমগ্র তেলেগু রাজ্যজুড়ে ছবিটিকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনা ও ক্রেজ তৈরি করেছে।
‘ইরুমাডি’-র এই বিরাট সাফল্য আরও একবার প্রমাণ করল যে, শক্তিশালী ও মনোগ্রাহী গল্পের সঙ্গে দর্শকরা যদি নিজেদের আবেগ সংযোগ করতে পারেন, তবে তাঁরা আজও দলে দলে প্রেক্ষাগৃহে ছুটে আসেন। বর্তমান যুগে যখন দর্শকরা হাতের মুঠোয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সহজেই ঘরের বসে সিনেমা দেখতে অভ্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে ‘ইরুমাডি’-র লাগাতার হাউসফুল শো প্রমাণ করে দিচ্ছে যে একটি নিখুঁত ও শক্তিশালী কাহিনি আজও মানুষকে টিকিট কেটে সিনেমা হলে আসতেই বাধ্য করে।
অভিনেতা রবি তেজার কেরিয়ারের জন্য ‘ইরুমাডি’-র এই অভাবনীয় সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও জীবন বদলকারী। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি একটি বড় এবং ব্যবসাসফল হিটের অপেক্ষায় ছিলেন। এই ছবির আকাশছোঁয়া সাফল্য তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন গতি ও অক্সিজেনের জোগান দিয়েছে। ছবিতে একজন সাধারণ, খেটে খাওয়া মধ্যবিত্ত বাবার চরিত্রে তাঁর অনবদ্য ও নিপুন অভিনয় প্রতিটি দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে, যা ছবিটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
তেলেগু সিনেমার চিরাচরিত এবং চেনা ‘লার্জার-দ্যান-লাইফ’ বা অতি-হিরোসুলভ চরিত্রের ছাঁচ ভেঙে রবি তেজা এই ছবিতে সম্পূর্ণ এক সাদামাটা চরিত্রে ধরা দিয়েছেন। তাঁর অভিনীত চরিত্রটির নাম ত্রিনাথ রাম, যিনি একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত বাবা এবং যাঁর গোটা পৃথিবী জুড়ে কেবল তাঁর মেয়ে বর্তমান। বাবা ও মেয়ের এই গভীর ও আবেগঘন সম্পর্ক ছবিটিকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে এবং টানটান থ্রিলারটিকে একটি আবেগময় রূপ প্রদান করেছে।
গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ত্রিনাথ রাম ও তার ছোট্ট পরিবার। তারা অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সীতারামা রাজু জেলার অন্তর্গত প্রত্যন্ত পোল্লুর গ্রামে বসবাস করে। ত্রিনাথ তার মেয়ের অত্যন্ত স্নেহের পাত্র এবং মেয়েই তাঁর জীবনের সর্বেসর্বা। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত ধর্মভীরু একজন মানুষ। প্রতি বছর কার্তিকা মাসম-এ তিনি নিয়ম করে আয়াপ্পা মালা ধারণ করেন এবং ৪১ দিনের অত্যন্ত কঠোর ধর্মীয় নিয়ম ও ব্রত পালন করেন।
তবে গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন গ্রামের একটি স্কুলে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সেখানে এক কিশোরীর রহস্যমৃত্যু বা খুনের ঘটনা সামনে আসে এবং এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্কুলের এক শিক্ষক সরাসরি জড়িয়ে পড়েন, যার জেরে তাঁকে তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই অভিযুক্ত শিক্ষকের আকস্মিক ফিরে আসা আবর্তে এক নতুন ও রহস্যময় মোড় এনে দেয়।
যদিও এই ধরনের আবেগঘন থ্রিলারের সামগ্রিক প্লট দর্শকদের কাছে কিছুটা চেনা বা পরিচিত মনে হতে পারে, তবুও ছবিটির আসল মূল আকর্ষণ হলো এর সুনিপুণ উপস্থাপনা এবং চিত্রনাট্য। স্কুলের সেই মর্মান্তিক ঘটনা, ত্রিনাথের জটিল ব্যক্তিগত জীবন, মেয়ের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক এবং সে কেন প্রতি বছর কঠোরভাবে আয়াপ্পা ব্রত পালন করে—এই সমস্ত দানা বাঁধা প্রশ্নগুলিই নিখুঁতভাবে গল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আবেগ, ভক্তি, পারিবারিক ড্রামা এবং রোমহর্ষক থ্রিলারের এক অপূর্ব মিশ্রণ দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, যা ছবিটির দুর্দান্ত বক্স অফিস সাফল্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।