তিব্বতে ভয়ঙ্কর ভূকম্পন ও ধসের জেরে প্রলয়ংকরী বন্যা! নেপালে ১০০০ মানুষ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় কাঁপছে ভারত-সীমান্ত

প্রকৃতির এক আকস্মিক ও ভয়াবহ বিপর্যয়ে কেঁপে উঠল তিব্বত ও নেপাল সীমান্ত। বুধবার সকালে তিব্বতে প্রথমে শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং পরবর্তীতে পাহাড়ধসের জেরে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ নেপাল। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে অন্তত ১ হাজার মানুষের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০০ মানুষ এখনও চরম বিপদের মুখে আটকে রয়েছেন। এই বিপর্যয়ের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য বিহারেও। বিহারের চম্পারণ, বেতিয়া এবং মধুবনির মতো সংবেদনশীল জেলাগুলিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘ই-কাংশিপুর’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকাল আটটার দিকে তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চলে ৪.৪ তীব্রতার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই কম্পনের পরপরই লেনডে নদীর সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ ল্যান্ডস্লাইড বা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। ধসের ফলে পাহাড়ি নদীগুলির স্বাভাবিক পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে রাসিয়া নদীর তীব্র স্রোত আছড়ে পড়ে নেপালের জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর। ঠিক কোন দিক থেকে এই ধস নেমে এল এবং এর পেছনে কোনো হিমবাহ হ্রদ বা গ্লেসিয়ার লেক ফেটে যাওয়ার মতো ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে নেপাল ও চীনের একদল বিশেষজ্ঞ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছেন।

নেপালের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত ভয়াবহ। আকস্মিক এই বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও দোকানপাট ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি যানবাহনও স্রোতে ভেসে গেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। দুর্গত ও অবরুদ্ধ এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য চালাতে অন্তত ৭টি হেলিকপ্টার এবং ৩৫ জন বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে। তিব্বতের এই বিপর্যয় যেভাবে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তাতে সমগ্র উপমহাদেশ জুড়েই চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty