হঠাৎ মস্কোয় সিআইএ প্রধান! এদিকে বিদেশ বিভুঁইয়ে ডোভাল থেকে জয়শঙ্কর—বিশ্ব রাজনীতিতে তবে কি কোন বড় ঝড়ের পূর্বাভাস?

বিশ্ব ভূ-রাজনীতির ময়দানে হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা। একই সময়ে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান থেকে শুরু করে ভারতের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং আরএসএস প্রধান পর্যন্ত প্রত্যেকেই রয়েছেন বিদেশ সফরে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত ও কূটনৈতিক সমীকরণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে এই উচ্চপর্যায়ের সফরগুলিকে কেবল গতানুগতিক বিদেশ ভ্রমণ হিসেবে দেখতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা।
তালিকায় রয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রধান জন র্যাটক্লিফ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এমনকি পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজও। যদিও প্রত্যেকের সফরের নেপথ্যে আলাদা কারণ রয়েছে, তবুও এই সফরগুলির সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১. সিআইএ প্রধান র্যাটক্লিফের গোপন মস্কো সফর ২৫ আগস্ট সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ একদম আকস্মিকভাবে রাশিয়া সফর করেন। সিআইএ প্রধান হওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম রাশিয়া সফর এবং ২০২১ সালের পর মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানদের মধ্যে অন্যতম বিরল মস্কো সফর। যদিও ক্রেমলিন বা সিআইএ এই বৈঠকের কোনো আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেনি, তবুও মার্কিন সূত্রের খবর, ইউক্রেন সংঘাত এবং মস্কো-তেহরান ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়েই এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সখ্যতা মার্কিন শিবিরের মাথাব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২. বেইজিংয়ে অজিত ডোভাল ও ২৫তম সীমান্ত আলোচনা ঠিক একই সময়ে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ২৫ আগস্ট বেইজিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ভারত-চীন সীমান্ত বিবাদ নিয়ে ২৫তম দপ্তরে বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের বৈঠকে অংশ নেন তিনি। দুই দেশের দ্বিপক্ষीय সম্পর্কের সাম্প্রতিক বরফ গলার পরিবেশের মাঝে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যার সমাধানে এই আলোচনা নতুন গতি আনতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন থেকে শুরু করে জাপান ও কানাডার সঙ্গে ভারতের এই বহুমুখী কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক নেতাদের এই ধারাবাহিক বিদেশ সফর আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় কোনো পালাবদলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।