‘আইআইটি মানেই কি মৃত্যুর ফাঁদ?’ ঋষিকেশ মৃত্যুর পর দেশজুড়ে তোলপাড়, ৮ বছরে ৩৯ ছাত্রের আত্মঘাতী হওয়ার খবরে শিউরে উঠবে দেশ!

আইআইটি দিল্লির এমএসসি ফিজিক্সের ৩১ বছর বয়সি ছাত্র হৃষীকেশ কুমারের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। গত তিন দিন ধরে আইআইটি দিল্লির প্রাঙ্গণে লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন পডুয়ারা। এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি থেকে উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন ডিজিপি অশোক কুমার নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যে এফআইআর দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। দোষীদের শাস্তি এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিরাপদ করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা জোরালো সই সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছেন। তাঁদের একটাই দাবি—ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষার্থীকে মানসিক অবসাদের জেরে চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য হতে না হয়। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দেশের নামী দামি এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পড়ুয়াদের জন্য এক অকথ্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে?

জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (NCRB)-এর তথ্যের ভিত্তিতে বিগত বছরগুলিতে সংসদে পেশ করা সরকারি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ভারতে ছাত্র আত্মহত্যার হার মোট আত্মহত্যার প্রায় ৭.৬ শতাংশ। প্রতি ১০০ জন আত্মহত্যাকারীর মধ্যে ৭ জনই কোনো না কোনো শিক্ষার্থী। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের এই আট বছরের মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মোট ৯৮ জন ছাত্রছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে আইআইটি (IIT)-গুলিতে, যেখানে গত আট বছরে সর্বোচ্চ ৩৯ জন মেধাবী ছাত্র প্রাণ হারিয়েছেন। এই তালিকায় এর পরেই রয়েছে এনআইটি (NIT) এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি, যেখানে ২৫টি করে আত্মহত্যার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। এছাড়া আইআইএম (IIM)-গুলিতেও ৪টি ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে ছাত্র মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান গ্রাফ নিয়ে শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি হস্তক্ষেপে একটি ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হয়েছিল। এই টাস্ক ফর্মে প্রায় ৮০ হাজার ছাত্র, ১০ হাজার শিক্ষক, ১৫ হাজার অভিভাবক এবং ৭০০-র বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে একটি বিস্তারিত সমীক্ষালব্ধ রিপোর্ট পেশ করেছে।

বিশেষজ্ঞ ও সরকারি তথ্যানুযায়ী, ছাত্রছাত্রীদের চরম পথ বেছে নেওয়ার পিছনে কাজ করে একাধিক গভীর কারণ— যার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত একাডেমিক চাপ, পরিবারের উচ্চাশা ও পারফরম্যান্সের অদৃশ্য প্রেসার, জাতি বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, র্যাগিংয়ের শিকার হওয়া, অর্থনৈতিক সংকট, শারীরিক অক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সমাজে প্রচলিত ট্যাবু। এই সমস্ত জটিলতা নিরসনে ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের পক্ষ থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা সুনিশ্চিত করা, কার্যকর অভিযোগ নিবারণ কমিটি গঠন, এবং সামগ্রিক পরিবেশকে আরও সংবেদনশীল করে তোলার কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty