এক মাসে ৯.৫ লাখ আবেদন! ভোটের আগে দিল্লির মহিলাদের জন্য বিরাট উপহার, কীভাবে পাবেন এই টাকা? জেনে নিন

দিল্লির রাজনীতিতে নারী ক্ষমতায়নের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল প্রশাসন। বুধবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্কল্পকে পাথেয় করেই রাজ্যে সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের যোগ্য নারীদের প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করেছে বর্তমান সরকার। রেজিস্ট্রেশন পোর্টাল চালু হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই প্রায় ৯.৫ লক্ষ নারী এই প্রকল্পের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন, যা এক নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই মহিলাদের এই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আজ যখন ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’ প্রকৃত রূপ নিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে, তখন রাজ্যের নারীদের মুখে এই স্বস্তির হাসি দেখেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ঘটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। গত ১ আগস্ট এই প্রকল্পের পোর্টাল উন্মোচন করা হয়েছিল এবং মাত্র তিরিশ দিনের ব্যবধানে ৯.৫ লক্ষেরও বেশি বোন এতে সাড়া দিয়েছেন। বুধবার তালকাটোরা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশাল অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের প্রথম ২৫০০ জন সুবিধাভোগীর হাতে ভেরিফিকেশন ও অনুমোদনের চিঠি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে যে, আগস্ট মাসের নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা সরাসরি ১ সেপ্টেম্বর উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে।
এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর নমনীয়তা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিশেষ যোজনায় নাম নথিভুক্ত করার জন্য কোনো রকম নির্দিষ্ট শেষ তারিখ বা ডেডলাইন রাখা হয়নি। এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন ও চিরকালীন প্রক্রিয়া। রাজ্যের মহিলারা তাঁদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো দিন পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ ব্যাপার হলো, কোনো নারী যদি মাসের শেষ দিকে অর্থাৎ ২৪ আগস্টেও রেজিস্ট্রেশন করেন, তবুও তিনি ওই সম্পূর্ণ আগস্ট মাসের জন্য পুরো ২৫০০ টাকা পাওয়ার অধিকারিণী হবেন। এর মাধ্যমে নারীদের কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা সময়ের চাপের মুখে পড়তে হবে না।
মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বাবলম্বী করে তোলা এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘমেয়াদী নারী ক্ষমতায়নের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পের জন্য বিশাল ৫,১00 কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। অতীতে যা ‘মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা’ নামে পরিচিত ছিল, তাকেই পরিবর্তিত রূপ ও বর্ধিত পরিসরে চলতি বছরের মার্চ মাসে দিল্লি মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে মহিলারা তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং গৃহস্থালির জরুরি খরচ মেটানোর পাশাপাশি নিজের নামে সঞ্চয় করার সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের সামগ্রিক আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।