দেশের বৃহত্তম রিনওয়াবেল এনার্জি গ্রিড তৈরির পথে আদানি! মহারাষ্ট্রে ৪,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশাল চুক্তি

দেশের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক ছুঁল গৌতম আদানির সংস্থা আদানি এনার্জি সলিউশনস লিমিটেড (AESL)। মহারাষ্ট্রে ৪,৫০০ মেগাওয়াট নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং স্টোরেজ বিদ্যুৎ দক্ষতার সঙ্গে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের জন্য প্রায় ৪,৭০০ কোটি টাকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সমিশন বা পোট্রেশন প্রকল্প অর্জন করেছে কোম্পানিটি। বুধবার সংস্থার প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘ওয়েস্টার্ন রিজিয়ন ইন সাতারা ফর পাম্পড স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ফর নেটওয়ার্ক এক্সপানশন প্ল্যান (আপ টু ৪,৫০০ মেগাওয়াট)-পার্ট-এ’ শীর্ষক এই মেগা প্রকল্পটি শুল্কভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক bidding (TBCB) প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সফলভাবে নিজেদের দখলে এনেছে এઈએএসএল। গ্লোবাল ডাইভার্সিফাইড আদানি গ্রুপের এই সহযোগী সংস্থা মূলত কর্নাটকে উৎপাদিত অতিরিক্ত সবুজ বা রিন্যুয়েবল এনার্জিকে মহারাষ্ট্রের প্রধান বিদ্যুৎ খরচ কেন্দ্রগুলিতে সরবরাহ করার জন্য এই ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপন করবে। এই বিশাল প্রকল্পে প্রায় ৪,৭০০ কোটি টাকা মূলধন ব্যয় (CapEx) হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর ফলে সাতারা, পুণে এবং মুম্বই মেট্রোপলিটন রিজিয়ন (MMR)-এর ক্রমবর্ধমান পাম্পড স্টোরেজ ইকোসিস্টেম দারুণভাবে উপকৃত হবে।

‘সাতারা পাওয়ার ট্রান্সমিশন লিমিটেড’ নামক একটি বিশেষ উদ্দেশ্যবাহী একক (SPV)-এর অধীনে গড়ে উঠতে চলা এই প্রকল্পটি আগামী ৩৬ মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে এઈએএসএল-এর প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) কন্দরপ প্যাটেল অত্যন্ত আশাপ্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এই সাতারা ট্রান্সমিশন প্রজেক্ট নবীকরণযোগ্য শক্তির সুষ্ঠু সঞ্চালন এবং বিশাল আকারের শক্তি সঞ্চয় বা এনার্জি স্টোরেজের প্রসারে এক ঐতিহাসিক ভিত্তি স্থাপন করবে। এর ফলে দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে পশ্চিম ভারতের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ আরও বহুগুণ শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে।

প্রকল্পের বিশদ বিবরণ অনুযায়ী, সাতারাতে একটি অত্যাধুনিক ৭৬৫/৪০০ কেভি সাবস্টেশন স্থাপন, কোলহাপুর-সাতারা ৭৬৫ কেভি ডবল সার্কিট ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ এবং কোলহাপুর পুলিং স্টেশনের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করার মতো একাধিক জটিল ও মেগা পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের পথ যেমন সুগম হবে, তেমনই দেশের বিদ্যুৎ অর্থনীতিতে আদানি গ্রুপের আধিপত্য আরও পোক্ত হবে।