বাংলায় কি ফের হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন? ভোটার তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে শোরগোল!

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলা শুনানিতে তৈরি হলো এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মল বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সময় সরাসরি প্রশ্ন ওঠে—বাংলায় কি তবে আবারও নতুন করে বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে? আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে তীব্র জল্পনা।

এদিনের শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁদের প্রায় ৯০ শতাংশের নামই বৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ, বিশাল সংখ্যক মানুষের নাম ভুলবশত বা অনৈতিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

পরিসংখ্যান ও বিতর্কের মূল বিষয়গুলি এক নজরে:

  • বিপুল মামলা: বাংলায় এসআইআর সংক্রান্ত মোট ৩৮ লক্ষ মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ লক্ষ মামলা নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে এবং ৭ লক্ষ মামলা নাম মুছে ফেলার জন্য করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৮৩,০০০ হাজার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

  • ভুল বাতিলের বহর: এই ৮৩,০০০ মামলার মধ্যে প্রায় ৭৫,০০০ ক্ষেত্রেই ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে যে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। অর্থাৎ, বাদ পড়া নামের প্রায় ৯০ শতাংশই সঠিক ও বৈধ ভোটার।

  • ভোটের ব্যবধান ও এসআইআর: তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও টিএমসি-র প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধানের চেয়ে এসআইআর মামলার সংখ্যা অনেক বেশি। টিএমসি সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জির দাবি, রাজ্যের অন্তত ৩১টি এমন বিধানসভা আসন রয়েছে, যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের চেয়ে এসআইআর-এ বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা অনেক কম। এর মধ্যে বালি, হেমতাবাদ এবং সাতগাছিয়ার মতো আসনগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শাসক দলের দাবি, এই বাতিল হওয়া ভোটগুলি মূলত তাদেরই সমর্থক ভোটারদের ছিল।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মল বাগচী মন্তব্য করেন, কোনো বিধানসভা কেন্দ্রে যদি জয়ের ব্যবধান কম থাকে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়, তবে সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলের ওপর তার গভীর প্রভাব পড়তে পারে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ এবং ট্রাইব্যুনালের রায়ে ৯০ শতাংশ নাম সঠিক প্রমাণিত হওয়ার তথ্যটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে শীর্ষ আদালত। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলার রায় এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ বাংলার রাজনীতিতে কী মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।