আলু-পেঁয়াজ আর চিনির চড়া দামের আসল রহস্য কী? বাজারে এসেই সব ফাঁস করল পুলিশ!

চিনির প্যাকেটটা হাতে তুলতেই থমকে যাচ্ছেন ক্রেতা। পেঁয়াজের দিকে তাকালেই কপালে চিন্তার ভাঁজ। সবজির ঝুড়িতে হাত দিলেই হিসাবের খাতা খুলে যাচ্ছে মাথার ভিতর। কী কিনবেন আর কী ছাড়বেন, এই ভাবনাতেই এখন বাজারের ব্যাগ ভারী হওয়ার আগেই পকেট হালকা হয়ে যাচ্ছে। সংসারের রান্নাঘরে প্রতিদিনের এই টানাপোড়েনের মাঝেই উঠছে আরও একটা প্রশ্ন, দামটা সত্যিই কি এতটাই? নাকি কোথাও আড়ালে চলছে অন্য কোনও কারসাজি? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার কোমর বেঁধে আসরে নামল পুলিশ।
দোকানের কাউন্টারে শুধু দাম নয়, মাল কোথা থেকে আসছে, কত দামে কেনা হচ্ছে আর কত দামেই বা বিক্রি হচ্ছে—সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি গুদামের দরজা খুলিয়ে মজুতের হিসাবও মেলাচ্ছেন আধিকারিকরা। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে হুগলির একাধিক বাজারে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
এদিন চন্দননগরের বিভিন্ন বাজারের পাশাপাশি চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগর বাজার, শেওড়াফুলি বাজার এবং ব্যান্ডেল বাজারেও হানা দেন আধিকারিকরা। মুদিখানা দোকানে ঢুকে প্রথমেই চিনির দাম নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাইকারি বাজার থেকে কত দামে চিনি কেনা হচ্ছে আর সাধারণ ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা সরাসরি খাতা খুলে দেখা হয়। শুধু চিনি নয়, দোকানে থাকা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং মজুতের পরিমাণও যাচাই করা হয়। কোথাও প্রয়োজনের অতিরিক্ত মজুত রয়েছে কি না, সেদিকেও ছিল তীক্ষ্ণ নজর।
মুদিখানার পর পুলিশের দল সোজা ঢুকে পড়ে সবজি বাজারে। আড়তদারদের গুদাম খুলে তল্লাশি চালানো হয় ভিতরে। বস্তার পর বস্তা আলু ও পেঁয়াজ কতদিন ধরে মজুত করে রাখা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বাইরে যখন খুচরো বাজারে ক্রেতাদের দরদাম চলছে, তখন আধিকারিকরা আড়ালে থেকে গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন। বাজারে পণ্যের দাম কি স্বাভাবিক কারণে বাড়ছে, নাকি ইচ্ছেমতো মজুত করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, তা খতিয়ে দেখাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইচ্ছা মতো চড়া দামে কোনও পণ্য বিক্রি করা যাবে না। অতিরিক্ত পরিমাণে কোনও দ্রব্য মজুত করে রাখাও বেআইনি। কালোবাজারির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সামনে এলেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। বাজারে এবার থেকে শুধু ক্রেতার দরদাম নয়, ব্যবসায়ীদের প্রতিটি হিসাবও যে প্রশাসনের কড়া নজরে থাকবে, এই অভিযান তারই স্পষ্ট বার্তা দিল।