টাইপ-সি চার্জারের ‘সি’ (C) অক্ষরের আসল অর্থ কী? ৯৯ শতাংশ মানুষই ভুল জানেন এই সত্যিটা!

বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অপরিহার্য একটি জিনিস হলো টাইপ-সি চার্জার। শুধু স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটই নয়, আজকাল মিউজিক সিস্টেম থেকে শুরু করে বিভিন্ন খেলনাতেও এই ক্যাবল ব্যবহার করা হয়। প্রায় সকলের ঘরেই এই পোর্ট ও ক্যাবল দেখা গেলেও, ঠিক কী কারণে একে ‘টাইপ-সি’ বলা হয় বা এর নামের পেছনের আসল ইতিহাস কী, তা অনেকেরই অজানা।

সাধারণত মনে করা হয় যে ‘C’ হয়তো কোনো বড় শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ বা কোড। কিন্তু অবাক করা তথ্য হলো, এই অক্ষরের নেপথ্যে কোনো পূর্ণরূপ বা বড় কোনো শব্দের কোড নেই। প্রযুক্তির ইতিহাসে চার্জিং পোর্টের বিবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই এর নামকরণ করা হয়েছে। এর আগে বাজারে আসা ‘টাইপ-এ’ এবং ‘টাইপ-বি’ চার্জারগুলোর নামকরণ মূলত তাদের নির্দিষ্ট আকৃতি এবং জেনারেশনের ওপর নির্ভর করে করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাতেই চার্জিং প্রযুক্তির তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ‘টাইপ-সি’।

ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্যাবলটির প্রান্তদেশ কিছুটা ‘সি’ (C) অক্ষরের আকৃতির মতো দেখতে হওয়ার কারণে একে এই নাম দেওয়া হয়। পুরনো প্রজন্মের টাইপ-বি চার্জারে সংযোগ স্থাপনের সময় সঠিক দিকটি দেখে প্লাগ ইন করতে হতো, যা অনেক সময়ই বিরক্তির কারণ হতো। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই বাজারে আনা হয় টাইপ-সি ক্যাবল, যার উভয় দিক থেকেই ডিভাইসে সংযোগ স্থাপন করা যায়। এর ফলে ভুল দিকে প্লাগ লাগানোর কোনো ঝামেলাই থাকে না।

শুধু সহজে প্লাগ ইন করার সুবিধাই নয়, ঝটপট ব্যাটারি চার্জ করা এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ডেটা আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও টাইপ-সি জুড়ি মেলা ভার। আধুনিক প্রযুক্তির এই বহুমুখী সুবিধার কারণেই এটি আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।