মোষ কার? আসল মালিক খুঁজতে এবার বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের সাহায্য! খোদ আইজির চাঞ্চল্যকর নির্দেশে তোলপাড়

মোষের মালিকানা কার— তা নির্ধারণ করতে এবার ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার নির্দেশ দিলেন স্বয়ং পুলিশকর্তা! গয়ায় একটি পোষ্য মোষকে ঘিরে দুই পক্ষের চরম বিরোধের জেরে এই নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর নির্দেশ দিয়েছেন মগধ রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি)। একই সঙ্গে গ্রামীণ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট আসার পরেই মোষটিকে তার প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত ওই পশুটি সম্পূর্ণ পুলিশি হেফাজতেই থাকবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গয়া জেলার আটারি থানা এলাকার সেউতারের বাসিন্দা সুরজ যাদবের একটি মোষ আচমকাই হারিয়ে যায়। বাড়ির কাছ থেকে পোষ্য উধাও হয়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়ে যায় পুরো পরিবার। এরপর খোঁজাখুঁজি করতে করতে সুরজ জানতে পারেন যে, তাঁর সেই হারানো মোষটি এলাকারই প্রকাশ মাজি নামে এক ব্যক্তির নৌরঙা টোলির বাড়িতে বাঁধা রয়েছে।
খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ প্রকাশের বাড়িতে গিয়ে মোষটিকে নিজের বলে দাবি করেন এবং জোর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন সুরজ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকাশ সোজা থানায় হাজির হন এবং মোষটিকে নিজের বলে দাবি করেন। এরপর আটারি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অজয় কুমার দুই পক্ষকেই থানায় তলব করেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ মোষটিকে থানায় নিয়ে এসে দুই দিন আটকে রাখে। থানার ভেতরে এমন অদ্ভুত পরিস্থিতিতে সুরজ যাদবের সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হট্টগোল শুরু করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় এক সাংবাদিক থানায় প্রশ্ন তোলেন যে, ঠিক কী আইনি ভিত্তিতে পুলিশ একটি পশুকে থানায় আটকে রেখেছে। এরপর থানার ইন-চার্জ মোষটিকে সুরজ যাদবের হাতে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে প্রকাশ উল্টো সুরজের বিরুদ্ধে এসসি/এসটি (SC/ST) আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
গোটা বিষয়টি যখন জটিল আকার ধারণ করে, তখন আটারির প্রাক্তন আরজেডি বিধায়ক অজয় যাদব ওরফে রঞ্জিত যাদব আসরে নামেন। তিনি সরাসরি মগধের আইজি বিকাশ বৈভবের সঙ্গে দেখা করে একটি লিখিত আবেদন জানান। প্রাক্তন বিধায়ক অভিযোগ করেন, সুরজ যাদব অত্যন্ত গরিব মানুষ। তাঁর পক্ষে এত বড় আইনি লড়াই লড়া বা পরিবারের ভরণপোষণ চালানো অসম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, গরিব মানুষটিকে হেনস্তা করতে এসসি/এসটি মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে, অথচ সেই আইনি লড়াইয়ের খরচে আরেকটি নতুন মহিষ কেনা সম্ভব ছিল। এছাড়া থানার ইনচার্জের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, এইচএএম পার্টির জাতীয় মুখপাত্র শ্যাম সুন্দর শরণও এই বিষয়ে আইজির সঙ্গে দেখা করেন। এরপরই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এবং সঠিক ও ভুয়ো দাবির মীমাংসা করতে আইজি বিকাশ বৈভব মোষটির ডিএনএ টেস্ট করানোর নির্দেশ দেন।
মগধ রেঞ্জের আইজি বিকাশ বৈভব জানিয়েছেন, আটারিতে একটি মোষের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিল। এই বিরোধের স্থায়ী ও সঠিক সমাধান করতে এবং প্রকৃত মালিককে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।